করোনাকাল
জান-ই-আলম
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দুনিয়ার ক্রিকেট বোর্ডগুলোর আয়ে বড়সড় ধাক্কা লাগলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সে তুলনায় একটু ব্যতিক্রম। ব্যাংকে স্ফীত কোষাগার থাকায় অন্য বোর্ডগুলোর মতো ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটতে হচ্ছে না বিসিবিকে।
তারপরও করোনার কারণে বিসিবির আয়ে কম-বেশি প্রভাব পড়েছে। জাতীয় দলের স্পন্সর নেই, সম্প্রচার স্বত্বের মেয়াদও শেষ। করোনার থাবায় এখন অবধি নতুন স্পন্সর পাওয়া যাচ্ছে না। হুমকির মুখে আছে বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন। করোনার পেটে বিলীন হয়েছে চলতি বছরের সূচিতে থাকা আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ। সবমিলিয়ে বিসিবির আয়ের প্রচলিত উত্সগুলো থমকে গেছে।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলছেন, করোনায় বিসিবির আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তবে সেটা বড় আকারে নয়। বিপিএল না হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। স্থগিত হওয়া টি-২০ বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপের পরিবর্তিত সূচি হয়েছে বলে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থেকে আয়ের উত্স নিয়ে চিন্তিত নয় বিসিবি।
বিসিবির আয়ের মূল উত্স দুটি। প্রথমত স্পন্সর, রাইটস বিক্রি, ঘরোয়া টুর্নামেন্ট থেকে আয়। আর ৫০ ভাগ আসে আইসিসি ও এসিসি থেকে।
বিশ্বকাপ হলে বিসিবির কোষাগারে ৩ লাখ ডলার জমা পড়ত। সুপার টেনে গেলে সাড়ে ৩ লাখ ডলার, সেরা চারে গেলে ৭ লাখ ডলার পেত বিসিবি। এশিয়া কাপ থেকে আসত অন্তত ২ লাখ ডলার। যেগুলো এই বছরে পাচ্ছে না বিসিবি। বিপিএল থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা লাভের আশা ছিল।
বিশ্বকাপ-এশিয়া কাপ হচ্ছে ধরে নিয়ে করোনাকালে গত এপ্রিল-মে মাসে বিসিবির কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন, ২০-২৫ শতাংশ আর্থিক ক্ষতি হবে। সেটা প্রায় ৩০-৩৫ কোটি টাকা। বৈশ্বিক দুই টুর্নামেন্ট না হওয়ায় চলতি বছরে ক্ষতির অঙ্কটা বেড়ে ৬০-৭০ কোটিতে চলে গেছে।
করোনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘আনুমানিক হিসাব করা যাবে না। এগুলো নির্ভর করবে আইসিসি কীভাবে তাদের স্পন্সরদের সঙ্গে চুক্তি করে। আর্থিকভাবে বড় ক্ষতি হচ্ছে না, কিছুটা ক্ষতি হচ্ছেই। হচ্ছে না বলাটা ঠিক হবে না। ইতিবাচক দিক হচ্ছে এগুলোর আবার তারিখ ঠিক হয়ে গেছে। ২০২০ এ যেটা হচ্ছে না, সেটা ২০২১ এ হবে। এশিয়া কাপেরও তারিখ একটা ঠিক করা আছে। তারিখ যেহেতু ঠিক করা আছে, ঐ ভাবে চিন্তা করলে বড় অঙ্কের ক্ষতি হবে না। কারণ টুর্নামেন্টটা তো হচ্ছে।’
করোনার কারণে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি হোম টেস্ট সিরিজ হারিয়েছে বিসিবি। টেস্ট ম্যাচ থেকে আয়ের পরিমাণ কম বলে এই ক্ষতি নিয়ে খুব একটা ভাবছে না বিসিবি। তবে করোনার মধ্যেই বিসিবির ব্যয় বাড়াবে জাতীয় দল ও এইচপির শ্রীলঙ্কা সফর। চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত, দুটি দলের লঙ্কায় অবস্থান মিলে ৩-৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
চিন্তার কারণ বিপিএল
করোনার কারণে জাতীয় দলসহ বিভিন্ন বিভাগে স্পন্সর সংকটের ক্ষতির চেয়ে বিসিবিকে বেশি ভাবাচ্ছে বিপিএল আয়োজন। দেশের করোনা পরিস্থিতি অনুযায়ী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিপিএল আয়োজন অনেকটা অনিশ্চিতই বলা যায়। নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘এসব কিছু জায়গা আছে যেখানে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হবে, এটা তো হবেই। এটা আপনাকে মেনে নিতেই হবে। আবার আমাদের একটা বড় ক্ষতি হবে যদি বিপিএলটা না করতে পারি।’