প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী শকুন মহাবিপন্ন!

প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী শকুন এখন মহাবিপন্ন। সারা বিশ্বে শকুনকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের শনিবার আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস পালিত হয়ে আসছে। করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশে এ বছর বনবিভাগ সেন্ট্রাল জুম ওয়ার্কশপের মাধ্যমে দিবসটি পালন করবে। এছাড়া শকুনের প্রয়োজনীয়তা ও বিলুপ্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসন অফিসের সম্মুখে ব্যানার টানিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

গরু, মহিষসহ মৃত প্রাণী বা পচাগলা ও বর্জ্য শকুনের খাবার। লাখ লাখ বছর ধরে শকুনই প্রকৃতি থেকে মৃতদেহ সরানোর কাজ করে রোগব্যাধিমুক্ত পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কয়েক দশক আগেও দেশের গ্রামগঞ্জে গরু, মহিষসহ গবাধিপশুর মৃতদেহ যেখানে ফেলা হতো দলে দলে হাজির হতো শকুন। প্রাণীর মৃত দেহের রোগজীবাণু মরে না। এগুলো সংক্রমিত হয়। শকুন এগুলো খেয়ে ফেললে রোগ বিস্তার রোধ হতো। শকুনের পেটে দ্রুত ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ায় দ্রুত তারা মৃত গবাধি পশুর মাংস খেয়ে সাবাড় করে দেয়। তবে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনে শকুনের আবাসস্থল বিনষ্ট আর গবাধিপশু চিকিত্সায় ‘ডাইক্লোফেনাক’ ও ‘কিটোপ্রোফেন’ দেওয়া গরু, মহিষ, ছাগলের মৃত দেহ খেয়ে শকুনের কিডনি নষ্ট হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মারা যায়। তবে শকুন সংরক্ষণে গত কয়েক বছর ধরে দেশে ব্যাপক কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য মতে সারা দেশে ২৫০ থেকে ২৬০টি শকুন রয়েছে। দেশে শকুনের এই তালিকার মধ্যে সুন্দরবনে বেশির ভাগ অংশ রয়েছে। তাছাড়া হবিগঞ্জের রেমা কালেঙ্গায় ৫০ থেকে ৬০টি ও কমলগঞ্জের দেওরাছড়া এলাকায় পাঁচ থেকে ছয়টি শকুন রয়েছে। উঁচু গাছের ওপরে নেট বসিয়ে দেওয়ায় রেমাকালেঙ্গায় শকুন সেখানে বাসা বাঁধছে এবং নতুন বাচ্চাও দিচ্ছে বলে বন বিভাগ দাবি করছে। তবে শকুন মহাবিপন্নের তালিকায় হলেও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এর সংরক্ষণ ও গুরুত্ব বেড়েছে। বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএনের যৌথ উদ্যোগে শকুন সংরক্ষণে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আইউসিএন এর তথ্য মতে, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত মনিটরিংয়ে শকুন কমেনি, বাচ্চা ফুটাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, বাংলাদেশে ছয় প্রজাতির শকুনের মধ্যে বাংলা শকুনটিই কোনোমতে টিকে আছে।  সারা বিশ্বে প্রায় ১৮ প্রজাতির শকুন দেখা যায়।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন সংরক্ষক রেজাউল করিম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, এ বছর করোনার কারণে সেন্ট্রাল জুম ওয়ার্কশপের মাধ্যমে  দিবসটি পালন করা হবে।