তারাগঞ্জে তিন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার নেই

পিয়ন-ফার্মাসিস্টই ভরসা 

তারাগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা

তারাগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো ডাক্তার নেই। আলমপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পাঁচ বছর ধরে ডাক্তারের পদ খালি। সেখানে রয়েছেন কেবল একজন পিয়ন। অন্য দিকে ইকরচালী ও হাড়িয়ারকুঠি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম চলছে ফার্মাসিস্ট ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক দিয়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে ইকরচালী, হাড়িয়ারকুঠি, সয়ার, আলমপুর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আছে। প্রতিটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক, একজন পিয়ন ও একজন আয়া থাকার কথা। কিন্তু ইকরচালী ও হাড়িয়ারকুঠি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার ও আয়া নেই। কার্যক্রম চলছে ফার্মাসিস্ট, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক ও পিয়ন দিয়ে।

আলমপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের চিকিত্সক ডাক্তার-কর্মচারীর পাঁচটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন শুধু একজন পিয়ন। চিকিত্সক না থাকায় প্রতিদিন নারী, পুরুষ, শিশু এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিত্সা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে আলমপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে সেখানে সাদেক, সফি, কামরুল আনিছুলসহ কয়েক জন জানান, তারাগঞ্জ হাসপাতাল দূরে হওয়ায় এখানে চিকিত্সা নিতে আসলাম। এসে দেখি ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই, তাহলে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে আমাদের লাভ কি? সেখানকার স্থানীয় সমবারু, মোজাম্মেল জানান, এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঁচ বছর থেকে ডাক্তার নেই। একজন পিয়ন আসে অফিস খোলে। জ্বর, সর্দি, গায়েব্যথা, পেটেব্যথার কথা বলে মানুষজন তার কাছে মাঝেমধ্যে কিছু ওষুধ নেয়।

জানতে চাইলে ঐ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত পিয়ন মাহবুব রহমান বলেন, ‘আমি তো প্রতিদিন সকালে এসে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তালা খুলে পরিষ্কার করে বসে থাকি। রোগীও আসে। কিন্তু আমি তো তাদের চিকিত্সা দিতে পারি না। সপ্তাহে দুই দিন হাড়িয়ারকুঠি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট সনাতন রায় এসে চিকিত্সা দেন। যেদিন তিনি আসেন না, সেদিন রোগীরা ফিরে যায়।’

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম বলেন, ইউনিয়ন ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্র তিনটির চিকিত্সক-কর্মচারী সংকটের বিষয়টি একাধিকবার লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। সপ্তাহে দুই দিন হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ফার্মাসিস্টকে আলমপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠিয়ে আপাতত চিকিত্সাসেবার কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।