ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনার প্রভাবে দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হলেও ধীরে ধীরে ফের সচল হচ্ছে। গতকাল শনিবার এক বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মুজিদ মাহমুদ হুমায়ূনও এ ইস্যু তুলেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্পাদনমুখী শিল্প খাত ধীরে ধীরে করোনার নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে তৈরি পোশাক খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই শিল্প বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উত্পাদনমুখী খাত। বিশ্বব্যাপী লকডাউনের প্রথম পর্যায়ে এই খাতে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলেও চলতি গত জুলাই থেকে এটি ফের সচল হতে শুরু করেছে। গত আগস্ট মাসের প্রথম ২২ দিনে বাংলাদেশ ২৪০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি।
গতকাল শনিবার শিল্পমন্ত্রী ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত বৈশ্বিক উত্পাদন ও শিল্পায়ন সম্মেলনের (জিএমআইএস ২০২০) অংশ হিসেবে ‘নীতিনির্ধারকদের চ্যালেঞ্জ :মন্দার মধ্য দিয়ে যাত্রা’ শীর্ষক অধিবেশনে আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে এ কথা জানান। কোভিড-১৯ থেকে উত্তরণে উত্পাদনশীল শিল্প খাতে ভ্যালু চেইনের উন্নয়নে বিশ্বসম্প্রদায়ের করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ও শিল্প মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সিএনএন ইন্টারন্যাশনালের বিজনেস এমার্জিং মার্কেটস্ এডিটর জন কে ডেফটেরিয়সের সঞ্চালনায় অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সৌদি আরবের শিল্প ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বান্দার বিন ইব্রাহিম আল-খোরায়েফ। আলোচনায় অংশ নেন রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, রুয়ান্ডার প্রতিনিধিরা।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্প উত্পাদন চালু রাখার সিদ্ধান্তের ফলে দেশীয় উত্পাদনমুখী শিল্প খাত ক্রমেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আগামী ছয় মাসের পর থেকে বাংলাদেশ করোনার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে ইউনিডো পরিচালিত সাম্প্রতিক সমীক্ষার সঙ্গে তিনি একমত পোষণ করেন। উত্পাদনমুখী শিল্প খাতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই শিল্পবিপ্লবের ফলে উত্পাদনমুখী শিল্পকারখানায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে এ খাতে কয়েকটি পাইলট উদ্যোগ ইতিমধ্যে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প খাত শ্রমঘন হওয়ায় বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প খাত করোনা-পরবর্তী সময়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি উন্নত ও উন্নয়নশীলনির্বিশেষে বিশ্বের সব রাষ্ট্রে উত্পাদনমুখী শিল্প খাতের বিকাশে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) সহায়তা জোরদার, হাইটেক সার্ভিস সহজলভ্য করা এবং অদক্ষ ও আধা দক্ষ জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চমানের দক্ষতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন।