করোনায় সিলেটে পর্যটন খাতে বিপুল ক্ষতি

সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট এখন রূপের ডালি মেলেছে। চারদিকে সবুজ, স্বচ্ছ নির্মল পরিবেশ হাতছানি দেয়। কিন্তু তা দেখার লোক নেই বললেই চলে। প্রায় ছয় মাস হলো পর্যটকবঞ্চিত সিলেটের পাহাড়, নদী, টিলা, হাওর। সিলেটের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেট ও মৌলভীবাজারে প্রায় ৫ হাজার হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। এই খাতে দুই থেকে আড়াই হাজার গাড়ি রয়েছে। মার্চ থেকে পর্যটননির্ভর মানুষ বেকার। তারা বলছেন, এ সময়ে তাদের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। হোটেল-মোটেল খুলে দেওয়ার দাবি তাদের।

সিলেটের আকাশ জুড়ে এখন সাদা মেঘের ভেলা। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের প্রতিবিম্ব বিশাল হাওরের শান্ত জলে যখন ভাসে আর যখন আকাশের সব নীল টাঙ্গুয়ার হাওরে লুটোপুটি খায় তখন কার না মন ছুটে যেতে চায় সেই প্রান্তরে। তাই বাধানিষেধ থাকার পরও সীমিত আকারে পর্যটকরা ছুটছেন প্রকৃতির কূলে।

সিলেটের জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুল, পান্তুমাই, চা-বাগান, হাকালুকি,               টাঙ্গুয়ার হাওর, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর, লালাখাল, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শিমুল বাগান, নিলাদ্রী লেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে নর-নারী, শিশুসহ নানা বয়সিরা ভিড় করছেন। কেউ কেউ রাতের বেলা জলারবন রাতারগুল ও হাওরে চন্দ্রিমা উপভোগে বের হচ্ছেন।  

গত মাস থেকে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র খুলে দিলেও সিলেট বিভাগের পর্যটনকেন্দ্র খোলার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা বলেন, বাইরে থেকে তেমন পর্যটক আসছেন না। যারা আসেন সবাই স্থানীয়। অবশ্য টাঙ্গুয়ার হাওরে রাত যাপনের বিষয়ে প্রশাসনের কড়া নিষেধ রয়েছে। এদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সিলেট এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। সুস্থতার পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউজ ওনার্স গ্রুপের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, দেড় দশকে সিলেটে হোটেল-রিসোর্ট খাতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বিপুল টাকা বিনিয়োগ করেছেন। শ্রীমঙ্গলে গত পাঁচ বছরে গড়ে উঠেছে শত রিসোর্ট। গত এক দশকে পর্যটক সমাগমও বেড়েছিল। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা বিপর্যস্ত।

সিলেটের পর্যটন মোটেল ব্যবস্থাপক কাজী ওয়াহিদুর রহমান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন সুলতানা জানান, পর্যটন স্পটসমূহ খুলে দেওয়ার নির্দেশনা এখনো আসেনি। তবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেকে পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় করছেন।