অপরাধ করে কাউকে পার পেয়ে যেতে দেননি শেখ হাসিনা ---------- ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখেন। বিশ্বজিত্, বগুড়ার ইমরান, বুয়েটের আবরার ও ফেনীর নুসরাতসহ প্রতি হত্যাকাণ্ডে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্যবস্থা নিয়েছে শাহজাদপুরের সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডে। সেখানে আমাদের নির্বাচিত মেয়রকেও জেলে যেতে হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের কোনো কোনো এমপির বিরুদ্ধেও মামলা চলছে। অপরাধ করে কাউকে পার পেয়ে যেতে দেননি শেখ হাসিনা।

গতকাল শনিবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু : বাঙালির চেতনার বাতিঘর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল                 কাদের তার সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সভায় যুক্ত হন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদরের একটি মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা—তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের আমলে নিজেদের দলের লোককে শাস্তি দিয়েছেন এমন একটা প্রমাণ কি দেখাতে পারবেন। বিএনপি প্রেস রিলিজ দিয়ে বিচার চাওয়ার আগেই দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ইউএনওর ওপর হামলার অভিযোগে কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা।

তিনি আরো বলেন, মনে রাখবেন দেশ ও জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট আছে বলেই শেখ হাসিনা সরকার এ ধরনের ঘটনায় সবার আগে রেসপন্স করে। আমরা কারো হাতে ইস্যু তুলে দিতে চাই না। সরকার আগেই ঘোষণা করেছে, অপরাধী যে-ই হোক আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু মির্জা ফখরুল সাহেবরা সরকারের সদিচ্ছা ও সাহসী ভূমিকা দেখতে পান না। তারা পূর্ণিমার রাতেও আমানিশার অন্ধকার দেখতে পায়। আন্দোলন ও নির্বাচনে পরাজিত হয়ে দলটি জন আস্থা হারিয়েছে।

২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড রাজনীতিতে পারস্পরিক সম্পর্কের অলঙ্ঘলীয় দেওয়ালকে আরো উঁচু করে দিয়েছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভেদের রাজনীতি মাথাচারা দিয়ে উঠছে, তাতে দেওয়াল আর দেওয়াল। কিন্তু আমরা এই বিভেদের দেওয়াল চাই না, চাই সোহার্দ-সম্প্রীতির সেতুবন্ধ। বিভেদ আমাদের পিছিয়ে দেবে। কিন্তু সম্প্রীতি এগিয়ে নেবে অর্জনের সোনালি দিগন্তে।

এ সময় জীবিকা নয়, জীবনের জন্যই শিক্ষা প্রয়োজন—এই বাস্তবতা শিক্ষার্থীদের উপলব্ধি করার আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশ অনুকূলে এলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ প্রান্তে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মাওলানা রুহুল আমীন মাদানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর হারুন অর রশিদসহ অন্যন্য শিক্ষকবৃন্দ।