এইচএসসি পরীক্ষায় ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা

মো: কবির হোসেন (সুজন),প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ

নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা

প্রিয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ, অনুশীলন বিভাগে স্বাগতম। আশা করি বৈশ্বিক মহামারিতেও তোমরা তোমাদের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছ। তাই তোমাদের সুবিধার্থে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ১ম পত্র হতে একটি উদ্দীপক এবং উদ্দীপকের আলোকে উত্তর প্রদান করা হলো। আশা করি তা তোমাদের সংগ্রহে থাকবে।

 

উদ্দীপক ঃ X,Y এবং Z তিন বন্ধু Big Bangla Limited-এ চাকুরি করতেন। তিন বন্ধু চাকুরি ছেড়ে দিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে সমপরিমাণ মূলধন নিয়ে একটি ইনডেন্ড ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। উক্ত ফার্মের কাজ হলো বহুজাতিক কোম্পানির বিভিন্ন পণ্যের মান, গুণাগুণ,মূল্য এবং পরিমাণ দেশীয় বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে পরিচিত করে তোলা  এবং ব্যবসায়ীদের ফরমায়েশ প্রদানে উদ্ভুদ্ধ করা বিনিময়ে কমিশন আদায় করা। তাই তারা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে তাদের আরেক বন্ধু সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার W-কে বিনা মূলধনে ব্যবসায়ে অংশীদার করে নেয়। তবে গত বছর Z তার ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে ব্যবসা পরিচালনায় অংশগ্রহন করেনি। বছর শেষে Z ব্যবসা হতে সমান মূনাফা দাবী করেন।

ক) নাবালক কী অংশীদারি কারবারের অংশীদার হতে পারে? 

খ) অংশীদারদের যোগ্যতা বলতে কী বোঝায়?    

গ) উপরের উদ্দীপকে W কোন ধরনের অংশীদার? আলোচনা কর।

ঘ) উদ্দীপকে Z এর  সমান মূনাফা দাবী কী যুক্তিযুক্ত? তোমার মতামত দাও।

উদ্দীপকের ক নং প্রশ্নের উত্তর :অংশীদারি আইন অনুযায়ী আংশীদারি কারবারে কোন নাবালক অংশীদার হতে পারে না, তবে সকল অংশীদার সম্মত হলে কিছু সময়ের জন্য নাবালক অংশীদারি কারবারের অংশীদার হতে পারে।

উদ্দীপকের খ নং প্রশ্নের উত্তর : অংশীদারদের যোগ্যতা বলতে অংশীদারি চুক্তি সম্পাদনে তাদের আইনগত যোগ্যতা থাকাকে বোঝায়।

 চুক্তিই অংশীদারি কারবারের মুল ভিত্তি। চুক্তি ছাড়া অংশীদারি কারবার গঠন করা যায় না। তাই চুক্তি করতে হলে নাবালক,পাগল,দেউলিয়া, মস্তিস্ক বিকৃতি,জড়বুদ্ধি সম্পূর্ণ ব্যক্তি ছাড়া যে কোনো ব্যক্তি চুক্তি করতে পারে। আর চুক্তি সম্পাদন করতে পারা ব্যক্তিগণকেই চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি বলা হয়।

উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর :উপরের উদ্দীপকে W একজন কর্মী অংশীদার।

যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে না, শুধুমাত্র নিজের শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত রাখে তাকে কর্মী অংশীদার বলে।

উপরের উদ্দীপকে তিন বন্ধু চাকুরি ছেড়ে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অংশীদার কারবার গঠন করেন। তাদের কাজ হলো বহুজাতিক কোম্পানির পণ্যের মান ও গুণাগুণ দেশীয় ব্যবসায়ীদের কাছে পরিচিত করে তোলা। পণ্যের পরিচিতি ব্যাপকতর করার জন্য তাদেরকে ইন্টারনেটের সহায়তা নিতে হয়। আই ইন্টারনেট কাজে আরো গতিশীলতা আনয়নের জন্য পাশাপাশি উক্ত কাজের অভিজ্ঞতার জন্য তারা আরেক বন্ধু W-কে ব্যবসায়ে অংশীদার করে নেয়। তবে W ব্যবসায়ে কোন মূলধন বিনিয়োগ করে নাই। শুধুমাত্র তার অভিজ্ঞতা এবং এই অভিজ্ঞতাকে পরিশ্রমের মাধ্যমে কাজে রূপায়িত করার জন্য তাকে কারবারে অংশীদার করে নেয়। সেই হিসেবে W মূলধন বিনিয়োগ  না করেও উক্ত কারবারের অংশীদার যাকে কর্মী অংশীদার বলা হয়।

উদ্দীপকের ঘ নং প্রশ্নের উত্তর : উদ্দীপকে Z উক্ত প্রতিষ্ঠানের একজন ঘুমন্ত অংশীদার । 

যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে,লাভ ক্ষতিতে অংশ গ্রহন করে শুধুমাত্র ব্যবসা পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করে না তাকে ঘুমন্ত বা নিস্ক্রিয় অংশীদার বলা হয়। আর ঘুমন্ত অংশীদার যেহেতু সক্রিয় অংশীদারের ন্যায় ব্যবসা হতে মুনাফা ভোগ করে সেই হিসেবে Z এর সমান মুনাফার দাবী যৌক্তিক।

উক্ত উদ্দীপকে তিন বন্ধুর অংশীদারি কারবারে Z সমান মূলধন বিনিয়োগ করে ব্যবসা পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করে একজন সাধারণ অংশীদার ছিল। কিন্তু তার ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে সে ব্যবসা পরিচালনায় নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। নিস্ক্রিয় হওয়াতেও উক্ত ব্যবসায়ে তার দায় অসীম থাকে। তবে পরিচালনায় সক্রিয় না থাকার কারণে এই ধরনের অংশীদারদেরকে ঘুমন্ত অংশীদার বলা হয়। আর অংশীদার হিসেবে তাদের মুনাফাও আগের মতই বহাল থাকে। অর্থাত্ তারা সাধারণ অংশীদারের মত সমান মুনাফা পাবে।

ঘুমন্ত অংশীদারেরা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রমে নিস্ক্রিয় থাকে বিধায় তাদের অংশীদার হওয়ার বিষয়টি জনসাধারণের জানা থাকে না। ফলে তাদের অবসর গ্রহনের সময় গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তাই তারা অবসর নিলে ব্যবসায়ের কোন কাজের জন্য তারা তৃতীয় পক্ষের নিকট দায়ী থাকে না। প্রতিষ্ঠানে অন্য সকল সুবিধাদি তাদের বহাল থাকে।