পুলিশ সদস্যের অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

পুলিশবাহিনীতে অনেক উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী ও সাহসী তরুণ যোগ দেওয়ায় এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসের সঙ্গেই তাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন। যে কারণে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে মাঝেমধ্যে কতিপয় পুলিশ সদস্যের অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরো বাহিনীর সুনামকেই শুধু নষ্ট করে না, মনোবলও ভেঙে দেয়। পুলিশবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস ধরে রাখতে অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক কাজের সঙ্গে যেসব পুলিশ সদস্য জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য পুলিশপ্রধানের পক্ষ থেকে জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে। যেখানে একজন সন্ত্রাসী বা দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধেই সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর সাহস নেই, সেখানে কর্মরত একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পক্ষে অভিযোগ জানানোর সাহস থাকার কথা নয়। কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়ে যদি কোনো পুলিশ সদস্য বরখাস্ত বা গ্রেফতার হয়, একমাত্র তখনই সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সাহস পায়। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্যে জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও দুর্ধর্ষ অপরাধীদের পুলিশবাহিনী সহজেই খুঁজে বের করতে পারছে। তাহলে পুলিশবাহিনীর মধ্যে যারা অপরাধী বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করতে অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে ‘বিশেষ গোপন ইউনিট’ গঠন করা যেতে পারে। দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং পুলিশবাহিনীর ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

বিপ্লব বিশ্বাস

গোয়ালচামট, ফরিদপুর