নারায়ণগঞ্জে মসজিদে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণ হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে এমনটাই জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন। গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসসহ চারটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে। বিস্ফোরণের পর মসজিদ সংলগ্ন এলাকার গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। মসজিদটিও আপাতত বন্ধ। অন্যদিকে বায়তুস সালাত মসজিদের দুটি বিদ্যুতের লাইনের মধ্যে একটি লাইন অবৈধ। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) গতকাল মসজিদটির বিদ্যুত্ লাইন পরীক্ষা করে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। বিকালে অবৈধ বিদ্যুত্ লাইনের বিষয়টি বিদ্যুত্ বিভাগকে জানিয়েছে। মসজিদের নিচে দিয়ে যাওয়া গ্যাসের লাইনটিও অবৈধ। আজ সোমবার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ লাইনটি খুঁড়ে বিষয়টি দেখবে।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এসির বিস্ফোরণ থেকে নয়, গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকেই আগুনের শুরু। তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি।
বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানায়, বায়তুস সালাত মসজিদের অনুমোদিত লোড ২০ কিলোওয়াট। ছয়টি এসি, কিছু ফ্যান, লাইট এবং একটি পানির পাম্প চালানো হতো। থ্রি ফেইজের লাইনটিতে ১১ কেভি খানপুর ফিডার থেকে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু মসজিদে ডিপিডিসির প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে আরো একটি সিঙ্গেল ফেইজ লাইনের সন্ধান পায়। অননুমোদিতভাবে নিউ হবিগঞ্জ ১১ কেভি ফিডার থেকে চেঞ্জওভারের মাধ্যমে মিটারবিহীন অবৈধ সিঙ্গেল ফেইজ এই লাইন নেওয়া হয়েছে।
একজন কর্মকর্তা জানান, মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের সার্ভিস তার, থ্রি ফেইজ মিটার, মসজিদের বক্স ট্রান্সফরমারটি অক্ষত অবস্থায় আছে। এই ট্রান্সফরমার দিয়ে মসজিদসহ আশেপাশের বাড়িগুলোতে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়। ফলে বিদ্যুতের কারণে মসজিদে আগুন লাগেনি বলেই মনে হয়েছে বিদ্যুত্ বিভাগের তদন্ত কমিটির।
ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেছেন, আমরা মসজিদগুলোতে সরেজমিনে এসি এবং বিদ্যুত্ সংযোগ পরীক্ষা করা শুরু করেছি। মসজিদের যে দুইটি লাইন আমরা পেয়েছি। তার মধ্যে একটি বৈধ প্রি-পেইড মিটারের। আর অন্যটি সিঙ্গেল ফেইজ লাইন অবৈধভাবে তারা নিয়েছে। তিতাস সংশ্লিষ্টদের একজন অভিযোগ করেন, মসজিদের নিচ দিয়ে তিতাসের গ্যাসের দুটি লাইন গিয়েছে। এরমধ্যে একটি লাইন অবৈধ। যদিও মসজিদে গ্যাসের ব্যবহার নেই। কিন্তু অবৈধ গ্যাসলাইনের কারণেও ঘটতে পারে এই দুর্ঘটনা।