বিপাকে বরেন্দ্র অঞ্চলের মাল্টা চাষিরা

একদা রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলে বছরে বৃষ্টিনির্ভর একটি ফসল হতো। তারপর ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে ধান চাষ করা হচ্ছিল। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধীরে ধীরে নিচে নামতে থাকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর পানি কম লাগে এমন ফসল চাষের মাধ্যমে শস্য বৈচিত্র্যকরণের উদ্যোগ নেয়। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে শুরু হয় নতুন জাতের ফসল চাষের আন্দোলন। বেশি বিস্তৃতি পায় পেয়ারা ও মাল্টার চাষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাছ মরে যাওয়ায় মাত্র তিন বছরেই মাথায় হাত উঠেছে মাল্টা চাষিদের। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, বিষয়টি অবগত হয়ে ইতিমধ্যে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। সেখানেও এই রোগ দেখা দিয়েছে। গোদাগাড়ীর জামদহের কৃষক মেরাজুল ইসলাম (৫৫) তিন বছর আগে ১৫ কাঠা জমিতে ৭০টি মাল্টার গাছ লাগান। বর্তমানে তার বাগানে কোনো মাল্টার গাছ নেই।

মেরাজুলের ছেলে রাকিবুল বলেন, এক বছর পর গাছে ফল আসে। কিন্তু পাতা হলুদ হয়ে গাছ মরতে শুরু করায় বাগান ভেঙে কপি চাষ করা হয়েছে। নগরীর কেদুর মোড়ের স্কুলশিক্ষক অভিজিত্ গুহ (৫২) ইউটিউব দেখে অংশীদার নিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বামনইল ও তানোরের চান্দুড়িয়ায় প্রায় ১৫০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে মাল্টাবাগান করেছেন। এ পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রায় ৭০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। গাছের বয়স প্রায় ১ বছর ৮ মাস। পরে দেখা যায় বাগানের ২৫ শতাংশ গাছের পাতা হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে।

পবার রনহাটের চাষি নূরুজ্জামান কৃষি বিভাগ থেকে নিয়ে দেড় বিঘা জমিতে ১৯৪টি মাল্টার গাছ রোপণ করেন। এর মধ্যে ১৪০টি গাছই রোগাক্রান্ত হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলার বামনইল এলাকার চাষি মঞ্জুর রহমান বলেন, তার বাগান ভালো আছে। ৫ শতাংশ গাছ রোগাক্রান্ত হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, গাছের পাতা হলুদ হওয়ার পরেও চিকিত্সা আছে। তারা চাষিদের সেই পরামর্শ দিচ্ছেন। যারা পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করছেন, তাদের বাগান ভালো আছে।