চার আসনেই চমক

পাবনা-৪ আসনের পর এবার ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনে আসন্ন উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মনোনয়নে চমক দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ। তিন আসনেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে প্রয়াত এমপি পরিবারের বাইরে। ঢাকা-৫ আসনে যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এবং নওগাঁ-৬ আসনে রাণীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি গতকাল সোমবার নিজের সরকারি বাসভবনে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ নাম ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, পাঁচ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন ১৩৬ জন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মনোনয়ন বোর্ড। জানা গেছে, পাঁচ সংদীয় আসনের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মনোনয়নে চারটিতেই চমক রয়েছে।       ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসানকে। তিনিও প্রয়াত এমপি পরিবারের বাইরের সদস্য। হাবিব হাসান ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা থেকে রাজনীতি শুরু করে বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আছেন। সিরাজগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের পুত্র ও সাবেক সংসদ সদস্য ক্লিন ইমেজের নেতা তানভীর শাকিল জয়কে একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে তপশিল ঘোষণা করা হলে তাদের নাম ঘোষণা করা হবে। গত ১৩ জুন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং ৯ জুলাই ঢাকা-১৮ আসনের এমপি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে আসন দুটি শূন্য হয়। ঢাকার দুই আসনে রাজনীতিকদের পাশাপাশি বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ীও মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ীকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না।

ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা গত ৬ মে মারা যান। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তার ছেলে মশিউর রহমান মোল্লা সজলসহ ২০ জন। এ আসনে মনোনয়ন পাওয়া মনিরুল ইসলাম মনু ষাটের দশকের শেষে তখনকার জগন্নাথ কলেজে পড়ার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

আর ২৮ জুলাই সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনটি শূন্য হয়। এ আসনে প্রয়াত এমপি ইসরাফিল আলমের স্ত্রী মোছা. সুলতানা পারভীনসহ ৩৪ জন নৌকার মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছিলেন। মনোনয়ন পাওয়া মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল প্রয়াত সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমবিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোট হবে ইভিএমে।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় পাবনা-৪ আসনের (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরুজ্জামান বিশ্বাস। গত ২ এপ্রিল বার্ধক্যজনিত কারণে সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যু হলে আসনটি শূন্য হয়। দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছিলেন ডিলুর স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে-জামাতাসহ পরিবারের আট জন। এর মধ্যে দুই জন ডিলুর খালাতো ভাই ও ভাগনিজামাই রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ২৮ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। ২৫ বছর পর ডিলু পরিবারের বাইরে গেল পাবনা-৪।