অবস্থার উন্নতি, ওয়াহিদাকে এইচডিইউতে স্থানান্তর

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গতকাল সোমবার তাকে আইসিইউ থেকে হাই ডিফিসিয়েন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে এখনো আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। এদিকে এই হামলার ঘটনায় নতুন করে দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান ঘোড়াঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামান। ইউএনও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়। আমরা কেবল আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে স্থানান্তর করেছি। তিনি সুপ খাচ্ছেন। কথাও বলছেন। কেউ ডাকলে সাড়া দিচ্ছেন। তবে ডান পাশ এখনো আগের মতোই অবশ হয়ে আছে। সেখান থেকে বের হতে অনেক সময় লাগবে।’ 

ঐ দুই জন হলেন উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের গাড়িচালক ইয়াসিন আলী (২৮)। তার বাসা উপজেলাসংলগ্ন চক বামুনিয়া বিশ্বনাথপুর এলাকায়। অপরজন হলেন ইউএনওর বাসভবনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী অরসোলা হেমব্রম (৩৬)। প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি ঐ বাসায় পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন। তার বাসা উপজেলার মিশন আবিরপাড়া এলাকায়। আটক ইয়াসিন আলী এসি ল্যান্ডের জন্য বরাদ্দ করা গাড়ির চালক। সহকারী কমিশনার পদে কেউ না থাকায় সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম। তিনি এসি ল্যান্ডের বিভিন্ন কাজে গাড়িটি ব্যবহার করতেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তিন জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গাড়িচালকসহ চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার মধ্যরাতে ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর কেটে দুর্বৃত্তরা তার শয়নকক্ষে ঢুকে পড়ে। এর আগে দুর্বৃত্তরা ঐ বাসভবনের নিরাপত্তা প্রহরীকে বেঁধে প্রহরীকক্ষে তালা দিয়ে আটকে রাখে। ইউএনওর বাবা ওমর আলী (৭০) প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে তিনি হাঁটতে বের না হওয়ায় সঙ্গীরা তার খোঁজ নেওয়ার জন্য বাসভবনে যান। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ইউএনও, তার বাবা ও প্রহরীকে উদ্ধার করে। আহত বাবা-মেয়েকে বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওয়াহিদা খানমকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকায় নেওয়া হয়। তিনি এখন ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিত্সাধীন।

এ ঘটনায় নির্বাহী অফিসারের বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে একই দিন রাতে একটি মামলা করেন। এ মামলার তদারকিতে সরকারের সব গেয়েন্দা সংস্থাসহ র্যাব, পুলিশ তদন্তকাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একজন কর্মকর্তা ঘোড়াঘাটে এ কাজের তদারকিতে এসেছেন।