নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনার ১২ বছর পর আদালতে দাখিল করা চার্জশিটের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চেয়েছেন ঐ ঘটনায় আহত এমপি শামীম ওসমান।
চার্জশিট দাখিলের সাত বছর পর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় গতকাল সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রথম বিচারক শেখ রাজিয়া সুলতানার আদালতে সাক্ষ্য প্রদান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরে আমি সাক্ষ্যতে যে জবানবন্দি দিয়েছিলাম এখন দেখি বিচার চলাকালে সেই কথা কিছুই নাই। আমাদের বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। ফলে আমি চাই এ ঘটনায় যারা প্রকৃত দোষী তাদের যেন বিচার হয়। আর যিনি দোষী না তিনি যেন আমার প্রতিপক্ষ হলেও সাজা ভোগ না করে। আদালত আমার বক্তব্য শুনে কনভিন্স হয়েছেন। আদালত পরে ঐ আদালতের এপিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন পিটিশন দেওয়ার জন্য।’
এ মামলার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভুক্তভোগী তিন জনের এক জন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান যাকে আদালত সাক্ষ্য দেওয়ার জন্যই তিন বার সমন জারি করে। শেষ সমনে গত ২৩ মার্চ সাক্ষ্য দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ থাকলেও করোনার জন্য উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে আবার পিছিয়ে যায় মামলার প্রক্রিয়া। গতকাল সোমবার দুপুরে নির্ধারিত শুনানির সময়ে আদালতে হাজির হন শামীম ওসমান। ঐ সময়ে আদালতে মামলার আসামি শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু উপস্থিত ছিলেন।
২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আওয়ামী লীগের ২০ নেতাকর্মী প্রাণ হারান। গুরুতর আহত হন শামীম ওসমানসহ অর্ধশতাধিক লোক। অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করেন। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ২ মে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়।