ডিজিটাল উদ্যোক্তা, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনার হেমী হোসাইন। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হেমী হোসেইন আজ প্রায় ২০ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। মাত্র ৬০০ ডলার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো হেমী হোসাইন স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশের। ২০১৭ সালে তিনি ‘বর্ষসেরা তরুণ উদ্যোক্তা’ হিসেবে এবং ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় তিনি স্মল বিসনেস ভিক্টোরিয়া থেকে ‘বেস্ট বিজনেস অ্যাওয়ার্ড ইন ২০১৮’ জয় করেন। প্রথমদিকের জীবন খুব একটা সহজ ছিল না হেমী হোসাইনের। রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম কাজ করার সঙ্গে চালিয়ে যেতেন নিজের পড়াশোনা। গ্রাজুয়েশন শেষ করে একটি ব্যাংকে চাকরি শুরু করেন। কিন্তু চাকরি জীবন শুরু করার বেশ কিছুদিন পর দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন হেমী। চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। অনেকদিন অসুস্থ থাকার পর সুস্থ হয়ে ভাবলেন তিনি আর চাকরি করবেন না, ব্যবসা শুরু করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক সাফল্য ধরা দিতে থাকে। ২০১৫ সাল থেকে হেমী হোসাইন সবাইকে উদ্যোক্তা হতে আহ্ববান জানাচ্ছেন। এছাড়াও তার টিম বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন ৩০০ জন ডিজিটাল উদ্যোক্তা।
হেমী হোসাইনের বই ‘ফায়ার ইউর বস’ বেশ সমাদৃত হয়েছে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে এবং এটি এখন একটি ইন্টারন্যাশাল বেষ্টসেলিং বই। তার এই বইয়ে কীভাবে একজন ডিজিটাল উদ্যোক্তা হওয়া যায় এই নিয়ে তিনি দিয়েছেন নানা দিক-নির্দেশনা। উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করার ধারাবাহিকতায় হেমী হোসাইন কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দেশের তরুণ সমাজ যারা সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর তাদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন Digital entrepreneurs Hub. যা একজন তরুণকে শুধু গদবাঁধা ফ্রিল্যান্সার নয়— প্রতিষ্ঠিত করবে একজন ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে। যা তাকে গ্লোবাল মার্কেটে কাজ করার উপযুক্ত করে তোলা এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে যুক্ত করার মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল ক্লায়েন্ট পাওয়া নিশ্চিত করবে।
হেমী হোসাইন বলেন, ডিজিটাল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা অনেক ত্যাগ, পরিশ্রম ও দক্ষতার ব্যাপার। জীবন থেকে যে শিক্ষা নিয়েছি, যেসব সমস্যার সমাধান জেনেছি তা দেশের তরুণ সমাজে ছড়িয়ে দিতে চাই।