ইত্তেফাক রিপোর্ট
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগে কোম্পানি কর্তৃক জমা দেওয়া নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী যাচাইয়ে বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগের কথা ভাবছে সরকার। এনবিআরে কোম্পানিগুলো যে রিপোর্ট জমা দেবে, তা সঠিক অডিট ফার্মের কি না, হিসাববিদদের সংগঠন আইসিএবি যাচাই করে নির্ধারিত কোড দেবে। এর ফলে কর কর্তৃপক্ষ ঐ নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে পারবে, দাখিলকৃত আর্থিক বিবরণী সঠিক অডিট ফার্ম কর্তৃক নিরীক্ষিত কি না। এ লক্ষ্যে আইসিএবি ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) নামে একটি পদ্ধতি তৈরি করতে যাচ্ছে। গতকাল ইস্যুটি নিয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সভা হয়েছে। ঐ সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এনবিআরের আয়কর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ডিভিএস পদ্ধতিটি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে কোম্পানির ভুয়া অডিট রিপোর্ট দেওয়ার সুযোগ কমে যাবে। ফলে আয়কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ মিলবে না। গতকালের ঐ সভায় এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম ছাড়াও আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফারুকসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, বছরে ৩৫ হাজার কোম্পানি আয়কর বিভাগে তাদের আর্থিক বিবরণী জমা দেয়। এসব আর্থিক বিবরণী স্বীকৃত হিসাববিদদের (চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বা অডিট ফার্ম) মাধ্যমে নিরীক্ষিত হতে হয়। এসব অডিট ফার্ম আইসিএবির নিবন্ধিত। কিন্তু আইসিএবির হিসাবে, তাদের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ১৬ হাজারের মতো অডিট রিপোর্ট দিয়ে থাকে। আয়কর বিভাগ মনে করছে, বাদবাকি নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী সঠিক নয় কিংবা ভুয়া। ইস্যুটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনেক কথা হলেও সমস্যা সমাধানে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যায়নি। সম্প্রতি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয় এনবিআর। এরপরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।