আগুন লাগার কারণে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ-পিজিসিবির ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী গ্রিড উপকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। আগুন নিভে গেলেও ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার বিদ্যুত্ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বিকালে তিন জেলায় বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলায় বিদ্যুত্ আসেনি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহ বিভাগের উপপরিচালক আবুল হোসেন জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে কেওয়াটখালী উপকেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমারে আগুন লাগে। শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
পিডিবি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, উপকেন্দ্রে তিনটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার আছে, একটিতে আগুন লেগেছে। কী কারণে এটা হয়েছে বা ক্ষয়ক্ষতি কী পরিমাণ হয়েছে সেটি জানাতে সময় লাগবে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের ফলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ এই চার জেলায় মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বিকাল ৫টার পর শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনায় বিদ্যুত্ সরবরাহ সচল করা হয়। তবে ময়মনসিংহ জেলায় বিদ্যুত্ আসতে একটু সময় লাগবে বলে তিনি জানান।
জানা গেছে, আগুনে কেওয়াটখালী পাওয়ার গ্রিডের পাওয়ার ট্রান্সফরমার, ৩৩ কেভি সার্কিট ব্রেকার, কারেন্ট ট্রান্সফরমার-সিটি, আইসোলেটর, কন্ট্রোল সার্কিট সিস্টেমসহ প্যানেল বোর্ড পুড়ে গেছে। ঘটনা তদন্তে পিজিসিবি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। জেলা প্রশাসনও আলাদা তদন্ত কমিটি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী আনসার সদস্যরা জানান, পশ্চিমপাশের সাব স্টেশন থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ পাশের মূল পাওয়ার গ্রিডে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসময় গ্রিডের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার পুড়ে যায় এবং এর পাশের আরেকটি পাওয়ার ট্রান্সফরমারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের একটি সূত্র জানায়, ১ লাখ ৩৩ কেভিএ গ্রিড লাইনের বিদ্যুত্ পাওয়ার ট্রান্সফরমার হয়ে ৩৩ কেভিএ সাব স্টেশনে সঞ্চালনের সময় ডিসি সিস্টেম ফেল করায় আগুন ধরে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পিজিসিবির পাশাপাশি বিদ্যুত্ বিভাগ কাজ করছে।
এদিকে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা। এসময় নগরবাসীসহ বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ ছিল অসহনীয়। বিশেষ করে পানি সংকটে নগরীর বহুতল ভবনের বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েন।