ফতুল্লার তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান (৫০) নামে আরো একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮ জনে। আগুনে তার শরীরের ৮৫ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল। অপরদিকে, গতকাল দুপুরে তল্লায় এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ :বিস্ফোরণের ঘটনা সরকারের গঠিত চারটি তদন্ত কমিটির তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘বৈদ্যুতিক সুইচ অফ-অন করতে গিয়ে সেখানে জমে থাকা গ্যাসের সংস্পর্শে স্পার্ক থেকে এ দুর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে। তবে মসজিদের ভিতর দিয়ে গ্যাসের লাইন গিয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মসজিদের বাইরে পূর্ব ও উত্তর দিকের দেয়ালের পাশে গতকালও তিতাস গ্যাসের লোকজন খোঁড়াখুঁড়ি করেছে। সোমবার শনাক্ত হওয়া লিকেজ লাইনটি কোথায় গিয়েছে তা এখনো তিতাস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি।’
ক্ষোভ বাড়ছে : এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে তিতাস গ্যাসের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নারায়ণগঞ্জে তিতাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি অনেকটাই ‘ওপেন-সিক্রেট’। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, তিতাসের এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। নিহত ইমাম আব্দুল মালেকের ছেলে ফাহিম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যদি তিতাসের কোনো ভুল থেকে থাকে তাহলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। আমাদের মতো অন্য কাউকে যেন স্বজনদের হারাতে না হয়।
আইসিইউতে ভর্তি আট জন: বর্তমানে আইসিইউতে ভর্তি আট জনের মধ্যে নজরুল ইসলামের শরীরের ৯৪, শেখ ফরিদের ৯৩, আবদুস সাত্তারের ৭০, মো. ফরিদের ৫০, আবদুল আজিজের ৪৭, কেনান হোসেনের ৩০, আমজাদ আলীর ২৫ ও মো. সিফাতের ২২ শতাংশ পুড়ে গেছে। গতকাল দুপুরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের বাইরে সিফাতের বাবা স্বপন বলেন, ‘সকালে ছেলের সঙ্গে দেখা করেছি। ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। চিকিত্সকরা ধৈর্য ধরতে বলেছেন।’ শেখ ফরিদের বাবা ইমদাদুল হক বলেন, ‘খোদা যেন আমার ছেলেডারে বাঁচাইয়া রাহে।’
চিকিত্সায় ওষুধ সরবরাহের দাবি : বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদের নিহত ইমাম আব্দুল মালেকের ছেলে নাঈম ইসলাম বলেন, ‘এখানে অনেক পরিবার আছে যাদের গত কয়েকদিন রান্নাঘরে চুলা জ্বলেনি। আমাদের এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি। এসব পরিবারকে যেন আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবার প্রতি ৫০ লাখ টাকা করে দেওয়া হোক। এদিকে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার ও মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১০ হাজার করে টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।