জেলেদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। গত তিন দিন ধরে দেশের বৃহত্তম মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রের (বিএফডিসি) ঘাটে নোঙর করে আছে মাছভর্তি সারিবদ্ধ ট্রলার।
দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় অলস সময় কাটিয়ে জেলেরা সাগরে ছুটে যাচ্ছেন ইলিশ শিকারে। জেলেদের জালে ধরাও পড়ছে প্রচুর ছোট-বড় রূপালি ইলিশ। দীর্ঘদিন পর লাভের মুখ দেখছেন মত্স্যজীবীরা। পাথরঘাটা মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রে (বিএফডিসি) মঙ্গলবার গিয়ে দেখা গেছে ইলিশে ভর্তি সারিবদ্ধ ট্রলার। আর অপেক্ষা করছে মাছবাহী ট্রাক। মত্স্যজীবীরা জানান, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ২৪ জুলাই থেকে মাছ ধরা শুরু হলেও জালে ইলিশ ধরা পড়েনি। তাছাড়া সাগর উত্তাল থাকায় অনেকেই ইলিশ শিকারে যেতে পারছিলেন না। যারা গিয়েছিলেন খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। দীর্ঘদিন কর্মহীন হয়ে বসে থাকায় যে আর্থিক ক্ষতির মুখে তাদের পড়তে হয়েছিল সে সমস্যা এখন কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশাবাদী তারা।
সাগর থেকে মাছ শিকার করে ফিরে আসা আবদুল্লাহ, সেলিম, মাসুমসহ একাধিক জেলে জানান, সাগরে এখন প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে। এভাবে কয়েকটি ট্রিপে ইলিশ ধরা পড়লে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন তারা। তারা আরো জানান, মাছ বিক্রি করেই তারা আবার ট্রলারে বরফ ওঠাবেন।
বিএফডিসিতে ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকায়, ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকায়, ৫০০ গ্রামের নিচে বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায়।
বরগুনা জেলা মত্স্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, জেলেদের মুখে এখন হাসি ফুটেছে। সাগরে এখন প্রচুর ইলিশসহ অন্য মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
দৌলতদিয়ায় ধরা পড়ছে বড় মাছ
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, উপজলোর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার পদ্মা-যমুনার মোহনায় প্রায় প্রতিদিনই জেলেদের জালে ধরা পড়ছে বিশাল আকৃতির বিভিন্ন মাছ। সোমবার রাতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে জেলে মমিনের জালে ধরা পড়ে ৪৬ কেজি ওজনের একটি বাগাড় মাছ। সকালে দৌলতদিয়া রওশন মোল্লার আড়তে মাছটি নিয়ে এলে সুমাইয়া মত্স্য আড়তের মাছ ব্যবসায়ী সোহেল মোল্লা মাছটি ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নেয়। মাছটি একনজর দেখার জন্য ভিড় করে স্থানীয়রাসহ ফেরিঘাটের সাধারণ যাত্রীরা।
মমিন হলদার বলেন, সোমবার রাত ১১টার দিকে নদীতে জাল ফেলি, রাত ২টার দিকে জাল টেনে বড় আকারের বাগাড়টি ধরি। এখন নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। যার ফলে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ এখন জেলেদের জালে ধরা পড়ছে।
গত সোমবার ফেরিঘাটের অদূ?রে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় ধরা পড়ে ৪৩ কেজি ওজনের আরেকটি বাগাড়। মাছ আড়ত থেকে ১ হাজার ১৪০ টাকা কেজি দরে ৪৯ হাজার ২০ টাকায় কিনে নেন দৌলতদিয়া ঘাটের শাকিল সোহান মত্স্য আড়তের মাছ ব্যবসায়ী মো. শাজাহান শেখ। এর আগে গত সপ্তাহে পদ্মা-যমুনার মোহনায় হযরত আলী নামে এক জেলের জালে ৩০ কেজি ওজনের বাগাড়, সাধু হালদারের জালে ২৬ কেজি ওজনের বাগাড়, গোবিন্দ হলদারের জালে ২৫ কেজি ওজনের বাগাড়, ফারুক হলদারের জালে ২৭ কেজি ওজনের একটি পাঙাশ ও শাহীন হলদারের জালে ২০ কেজি ওজনের পাঙাশ ধরা পড়ে। এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা সিনিয়র মত্স্য র্কমকর্তা রেজাউল শরীফ জানান, সারা বছর নদীর এ এলাকায় বড় মাছ খুব বেশি একটা ধরা পড়ে না। তবে বর্ষার প্রায় পুরো মৌসুম জুড়েই এ এলাকায় বড় বড় মাছ দেখা যায়। আর বর্ষার শেষে বড় মাছগুলো বেশি ধরা পড়ে।