মন্ত্রীদের উত্তরের জন্য সংসদ সদস্যরা সংসদে যেসব প্রশ্ন জমা দেন, তা অনেক সময় বদলে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে তিনি এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান।
সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৩০৮ বিধির কথা উল্লেখ করে স্পিকারের উদ্দেশ্যে হারুন বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে সংসদে প্রশ্ন জমা দেই। সেটির আলোকে আপনি ক্ষমতাবলে যেগুলো গ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সেগুলোর উত্তর দিয়ে থাকেন। আমরা যেভাবে প্রশ্নটা জমা দেই, হুবহু সেইভাবেই আসা উচিত। আপনি চাইলে গ্রহণ নাও করতে পারেন কিন্তু আমাদের প্রশ্ন পরিবর্তন করতে পারবেন না।’ হারুনের অভিযোগের জবাবে স্পিকার বলেন, কার্যপ্রণালি বিধির বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশ্ন পরিবর্তনের যে বিষয়টি তুলেছেন, সেটা আমি দেখব।
এদিকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিষয়ে সোমবার হারুনুর রশীদের এক প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া জবাবের প্রসঙ্গ টেনে গতকাল বিএনপির ঐ এমপি মন্ত্রীর উত্তর বাতিলের দাবি জানান। হারুন বলেন, মন্ত্রী তার জবাবে বলেছেন, গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। অসত্ উপায়ে ভর্তির কোনো অভিযোগ কোনো পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রীর এই জবাব সঠিক নয় দাবি করে হারুন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। সিআইডি তদন্ত করে এর সত্যতাও পেয়েছে। অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন ফাঁস করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছেন। এতকিছুর পরেও মন্ত্রী যে উত্তর দিয়েছেন তা সঠিক নয়, তাই তার এই উত্তর বাতিল করতে হবে।