আমন রোপণের ভরা মৌসুমে চারা (জালা) সংকটে ভোলার বোরহানউদ্দিনের চাষিরা। বেশি দামেও মিলছে না চারা। এতে চাষিরা জমি আবাদি থাকার আশঙ্কার কথা জানান।
সাচড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্গাচাষি হরজন আলী ( ৫৫) জানান, চার একর জমিতে তিনি বিআর-২২ জাতের ধান চাষের সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুসারে বীজতলা প্রস্তুত করেন। টানা বৃষ্টি আর জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয় তার বীজতলা। নষ্ট হয়ে যায় তার অর্ধেক চারা। অনেক কষ্টে কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকা দরে তিনি চারা কিনেন। যদিও ঐ চারা দিয়ে তার চার একর জমি আবাদ করতে পারবেন না। জালার (চারা) অভাবে কিছু জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মৌসুম শেষে জমির মালিককে একরপ্রতি ১২ মণ ধান দিতেই হবে। ফলন হোক কিংবা না হোক।
সাচড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাথান বাড়ির কৃষক শহিদুল মীর জানান, ১০ একর জমির মধ্যে জোয়ারের আগে দুই একর রোপণ করি। পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে রোপণকৃত ধানের অর্ধেক নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হয়ে যায় বীজতলার জালা। এখন ৪ হাজার ৩০০ টাকার জালা কিনে চারা রোপণ শুরু করি। জালার অভাবে এক একর জমি খিল (অনাবাদি) থাকতে পারে।
প্রায় অভিন্ন কথা বললেন একই ওয়ার্ডের মাজেদ, মহিজল ও দেউলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চাষি মফিজুল হক ঢালী। তারা জানান, এক কেজি ধানের জালা ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে তাদের জমি আবাদ করতে হবে। তারা জানান, ৫০/৬০ শতাংশ জালা নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে জালার সংকট। জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেন চাষি বাচ্চু, সফিজল,সফিকসহ অনেকে। এমতাবস্থায় বিপাকে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বর্গাচাষিরা।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে এ উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর। ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর। চলতি সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তারা জানান।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওমর ফারক জানান, চারা নষ্ট নয়। আসলে কৃষকরা সাধারণত ৩৫-৪০ দিন বয়সি উত্তম চারা রোপণ করতে চায়। এর বেশি বয়স হলে চারায় গিট হয়ে যায়। ঐ চারায় অপেক্ষাকৃত ফসল কম হয়। কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের কাছে আপত্কালীন বীজ মজুত আছে।