স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, পুলিশের গুলিতে অব-সরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদালত না চাইলে জমা দেওয়া হবে না। তবে কমিটির দেওয়া বিভিন্ন সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার-বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। এ সময় তদন্ত প্রতিবেদন একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বন্ধ প্যাকেট নিয়ে আমাদের অতিরিক্ত (রাজনৈতিক) সচিব বসে আছেন। তার কাছে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি একটি কমিটি তৈরি করে এই তদন্ত প্রতিবেদনটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়বেন, দেখবেন, বিশ্লেষণ করবেন। তারপর আমাদের সচিবের সামনে তুলে ধরবেন। আমরা পরবর্তী সময়ে কী করণীয় সেটা সিদ্ধান্ত নেব। এটা কিন্তু একেবারে পরিষ্কার। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই প্রতিবেদন একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন কীভাবে প্রকাশিত হলো—সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিনহা হত্যার তদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে পত্রিকায় কী এসেছে এবং তা কতটা ঠিক তা জানা নেই। আদালতে পেশ করার আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংবাদপত্রে প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি এই রিপোর্ট পর্যালোচনা করবে।
তিনি বলেন, পত্রিকায় কীভাবে প্রকাশ হলো সেটা আমার জানা নেই। যে প্রকাশ করেছে ও তথ্য সরবরাহ করেছে তারা কাজটি সঠিক করেনি। এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। আর ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে আমরা তা দেখব। এই বিষয়টি নিয়ে কোর্টে তদন্ত চলছে। কাজেই এখানে আমরা কোনো রকমের মন্তব্য করব না আমরা আগেই বলেছি। আমরা এটাও বলেছি কোর্ট যদি এই রিপোর্ট চান তাহলে আমরা কোর্টকে দেব। যাতে নিরপেক্ষ একটি প্রতিবেদন বিচারকদের কাছে যায়। সেজন্য যত ধরনের প্রচেষ্টা আমরা নেব। বর্তমানে কোর্টের নির্দেশে র্যাব তদন্ত করছে। তাদের প্রতিবেদনের আগে কোনো রিপোর্ট বের হয়ে সেই তদন্তকে প্রভাবিত করুক এটা আমরা চাই না। এটা বিচারকরাও চান না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আমাদের কাছে একটি তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি এই রিপোর্ট পর্যালোচনা করবে। পরবর্তীতে আমরা কি করব সেই সিদ্ধান্ত নেব।
সিনহা হত্যার তদন্তের প্রতিবেদন কীভাবে প্রকাশ পেল তা কতখানি সত্য সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন কীভাবে প্রকাশ পেল সেটা আমার জানা নেই। এটা কতখানি সত্য বা কতখানি সত্য নয় এটা আমরা এখন বলতে পারব না। আমরা যেহেতু পড়িনি, আমরা পড়ব তারপর বলব এটা সত্য কি না?
এমন কাজ যারা করেন তাদের বিরুদ্ধে কি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে?—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের একটি স্বনামধন্য পত্রিকায় প্রসঙ্গটা প্রকাশ পেয়েছে। আমরা দেখব এর সত্যতা কতটুকু এবং কার মাধ্যমে তারা পেয়েছেন। এছাড়া বিচারের আগে কেনইবা এটা প্রকাশ করলেন—এটা আমাদের জানার বিষয় থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যারা প্রকাশ করেছে সঠিক করেননি। বিচারের আগে তারা প্রকাশ করেছে। তাদের কাছে তো চাওয়া হয়নি। কোর্টতো কোনো পত্রিকার কাছে চাইবে না। আমাদের কাছে চাইবে আমরা পাঠিয়ে দেব। আর ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য তদন্তের রিপোর্ট আমরা পর্যালোচনা করব। আমাদের করণীয় তাদের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া।
সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলায় সরকারের অনুমতির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আইন রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। সে অনুমতি না নিলে বিচার বিভাগ বিষয়টি দেখবেন। আমাদের এখানে যদি কেউ এ বিষয় তুলে ধরেন তাহলে আমরা বিচার বিভাগের পরামর্শ নিয়েই যা কিছু করতে হয় করব।