গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উচ্চফলনশীল তিনটি ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। নতুন উদ্ভাবিত এসব ধান উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা সহনশীল এবং আউশ মৌসুমে চাষ করা যাবে। মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় এ তিনটি ধানের জাত অনুমোদন করা হয়। সভায় ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন উদ্ভাবিত এসব ধানের মধ্যে বোরো মৌসুমের লবণাক্ততা সহনশীল দুইটি ও আউশ মৌসুমে চাষাবাদের উপযোগী একটি।
ব্রির সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার কৃষিবিদ এম আব্দুল মোমিন জানান, ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৯৭ ও ব্রি ধান-৯৯ দেশের উপকূলীয় লবণাক্ততা অঞ্চলের জন্য এবং ব্রি ধান-৯৮ সারা দেশে আউশ মৌসুমে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়। নতুন এই তিনটি জাত উদ্ভাবনের ফলে ব্রি উদ্ভাবিত সর্বমোট ধান জাতের সংখ্যা দাঁড়াল ১০৫টি।
তিনি আরো জানান, অবমুক্ত করা নতুন জাতগুলোর মধ্যে ব্রি-৯৮ আউশ মৌসুমে চাষ উপযোগী জাত। এর ফলন প্রতি হেক্টরে ৫.০৯ থেকে ৫.৮৭ টন। এর দানা লম্বা ও চিকন। এ জাতের ধানের দানার রং সোনালি। এ জাতের জীবনকাল ১১২ দিন যা রোপা আউশ মৌসুমের জাত বিআর-২৬ এর সমান।
এছাড়া ব্রি ধান-৯৭ ও ব্রি ধান-৯৯ বোরো মৌসুমের উচ্চফলনশীল লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাতগুলো চারা অবস্থায় ১৪ ডিএস/মি এবং সমগ্র জীবনকাল ৮-১০ ডিএস/মি লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। ব্রি ধান-৯৭ এর গড় জীবনকাল ১৫২ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৪.৯ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকূল পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ৭.০ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। ব্রি ধান-৯৯ এর গড় জীবনকাল ১৫৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৫.৪ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকূল পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ৭.১ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।