চট্টগ্রামে করোনাযোদ্ধাদের হোটেল মোটেল বিল পরিশোধ হয়নি

করোনা সংক্রমণকালে সরকারি সিদ্ধান্তে চিকিত্সার জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হোটেল-মোটেলে চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবস্থানকালীন বিলের একটি বড় অঙ্কের টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি। টাকা পরিশোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন ব্যতিব্যস্ত। এসব বিল পরিশোধে ইতিমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পর্যটন করপোরেশনের মোটেল সৈকতের বকেয়া পড়েছে ৭৬ লাখ টাকা, অন্যান্য হোটেলের বকেয়া ১২ লাখ টাকা। অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বকেয়া পড়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ ইত্তেফাককে বলেন,                 জুনের আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল সৈকত ছাড়া অন্য হোটেলগুলোকে কোয়ারেন্টাইন খাতের তহবিল থেকে কিছু টাকা পরিশোধ করেছি। বর্তমানে হোটেল সৈকত ডাক্তার নার্সদের অবস্থান বাবদ বকেয়া বিল পাবে ৭৬ লাখ টাকা এবং অন্য হোটেলগুলো পাবে ১২ লাখ টাকা। টাকা পরিশোধের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিলম্বের কারণে হোটেল মালিকরা এখন বকেয়া পরিশোধে চাপ দিচ্ছেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, করোনাকালীন সময়ে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের অবস্থান বাবদ বিভিন্ন হোটেলে এই মুহূর্তে আমাদের বকেয়া রয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। এসব টাকা দ্রুততম সময়ে পরিশোধের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চমেক হাসপাতাল পরিচালকের মাধ্যমে তহবিল চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বিল পরিশোধের বিলম্বের বিষয়টি হোটেল মালিকরা সহজভাবে নিচ্ছেন না। কেননা বিপদের সময় তারা আমাদের পাশে ছিলেন। যদিও ইতিমধ্যে আমরা গ্যাস, বিদ্যুত্, পানিসহ তাদের ইউটিলিটি বিলগুলো পরিশোধ করেছি। অবস্থানকালীন বিলের টাকা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই।

জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মালিকানাধীন মোটেল সৈকত, টেরিবাজারের আল ইমাম হোটেল, স্টেশন রোডের হোটেল প্যারামাউন্ট ও হোটেল দি এলিনাতে অস্থায়ীভাবে ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিত্সক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। এপ্রিল-মে মাসের হোটেল ভাড়া পরিশোধ করা হলেও পরের দুই মাসের হোটেল ভাড়া পরিশোধ করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে তাদের মোট ৮৮ লাখ টাকা বকেয়া বিল রেখে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক গত মাসের শুরুতে চিকিত্সক নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের হোটেল ছাড়তে হয়।