পরীক্ষা ছাড়াই গ্রিন জোনে অবাধ যাতায়াত

শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য বাংলাদেশ দলের দলীয় ক্যাম্প শুরুর আগে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক বিসিবি। গ্রহণ করা হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গোটা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণকে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিন জোন, রেড জোনে ভাগ করেছে বিসিবি। যদিও এখনো গলায় কার্ড ঝোলানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে জোনভিত্তিক কার্যক্রম।

পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। গ্রিন জোনকে বলা হচ্ছে নিরাপদ জায়গা। যেখানে ক্রিকেটার, ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোক ছাড়া কেউই প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু এখনো গ্রিন জোনের নিরাপত্তা বলয়কে নিরাপদ করতে পারেনি বিসিবি। গতকাল জানা গেছে, গ্রিন জোনের কার্ড পেয়েছেন প্রায় ৫০ জন গ্রাউন্ডসম্যান। এদের কারোই করোনা পরীক্ষা হয়নি। অথচ গ্রিন জোনে তাদের অবাধ প্রবেশ চলছে।

করোনা পরীক্ষা হয়নি বলে তারা নিজেরাও জানেন না আদৌ প্রাণঘাতী এই ভাইরাস বহন করছেন কি না। মাঠে নির্বিঘ্নেই তামিম-মুস্তাফিজদের কাছাকাছি বা সংস্পর্শে আসছেন গ্রাউন্ডসম্যানরা। অবশ্য বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী গতকাল বলেছেন, দ্রুতই গ্রাউন্ডসম্যানদের করোনা পরীক্ষা করা হবে। গ্রিন জোনের কার্ড সংখ্যা ১০ জনে নামিয়ে আনা হবে। জাতীয় দলের আবাসিক ক্যাম্প শুরুর আগেই এগুলো দৃশ্যমান হবে। মুমিনুলদের ক্যাম্প শুরু হতে পারে ২১ সেপ্টেম্বর।

গতকাল দেখা গেছে, মিরপুর স্টেডিয়ামে অবস্থানরত গ্রাউন্ডসম্যান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মীদের গলায় ঝুলছে গ্রিন ও রেড জোনের কার্ড। গ্রিন জোনে দায়িত্ব পালন করা জনৈক নিরাপত্তারক্ষীর গলায় ঝুলছে রেড জোনের কার্ড। আবার পরিচ্ছন্নতাকর্মীর গলায় গ্রিন জোনের কার্ড। কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদের কারোই করোনা পরীক্ষা হয়নি।

এমনকি সবসময় ক্রিকেটারদের কাছাকাছি থেকে কাজ করেন এক ব্যক্তি গতকাল বলেছেন, ‘আমার এখনোও পরীক্ষা হয়নি। হয়তো সামনেই হবে। আমরা যারা যুক্ত আছি আমাদের এটা করা দরকার।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাউন্ডসম্যান বলেছেন, ‘আমাদের পরীক্ষা হয়নি। তবে শুনছি কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের পরীক্ষা হবে।’  করোনা পরীক্ষা না করে গ্রিন জোনের কার্ড দেওয়া হয়েছে স্বীকার করে প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘এদের সবাইকে আমরা পরীক্ষা করতে পারি নি। তবে আমাদের পরিকল্পনা আছে পর্যায়ক্রমে আমরা করতে থাকব। দল যখন হোটেলে উঠবে শেষের দিকে পরীক্ষা করে আমরা গ্রিন জোনের কার্ড কমিয়ে আনব।’

গ্রিন জোনের কার্ড পেয়েছেন মূলত গ্রাউন্ডসম্যানরা। বিসিবির প্রধান চিকিত্সক বলেছেন, ‘আমরা আপাতত প্রায় ৫০ জনকে গ্রিন জোনের আওতায় এনেছি। এখানে বেশির ভাগ গ্রিন জোনের কার্ডই গ্রাউন্ডসম্যানদের। গ্রাউন্ডসম্যানের সংখ্যাই তো ৪০-৫০ জন। কারণ তারা কাছে যায়। আগামী এক সপ্তাহে এর সংখ্যা কমে যাবে। হয়তো আমরা তখন ১০ জনকে দিব, শেষের দিকে।’