করোনা ভাইরাস মানুষের জীবনযাত্রাকে এলোমেলো করে দিয়েছে। এ অবস্থায় নিত্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকার এবং জনগণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের কর্মসংস্থানমূলক বিশাল প্রকল্প হলো দেশব্যাপী ১০০টি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা) প্রতিষ্ঠা। প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে। প্রতি জেলায় ইপিজেড জাদুঘর, চিড়িয়াখানা নির্মাণের মাধ্যমেও অসংখ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়। উপজেলা পর্যায়ে বিসিক শিল্প নগরী সম্প্রসারণের মাধ্যমেও বেকারদের হতে পারে অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা। সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলসহ বন্ধ থাকা শিল্প কারখানা প্রাঙ্গণে এসএমই পার্ক সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন উদ্যেক্তাদের হতে পারে স্বপ্ন পূরণ। প্রতিটি ইউনিয়নে লক্ষাধিক লোকের বসবাস। তাই প্রতিটি ইউনিয়নে শিশুপার্ক, পাঠাগার, জিমনেসিয়াম, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্টি হতে পারে অনেক কর্মসংস্থান। আয়বর্ধনমূলক ৫০০০ শিশুপার্ক নির্মিত হলে এবং প্রতি শিশুপার্কে ৩০ জন লোকের চাকরি হলে ১,৫০,০০০ লোকের কর্মসংস্থান হবে। তাছাড়া রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, হাট-বাজার, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির এবং দর্শনীয় স্থানে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের মাধ্যমে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় লক্ষাধিক পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী দ্রুত নিয়োগ দিলে বেকারজীবনে হতে পারে আশার সঞ্চার। তাছাড়া যাকাতের অর্থের কর্মমুখী বণ্টন (শাড়ি-লুঙ্গির পরিবর্তে ভ্যান, রিকশা, সেলাই মেশিন) আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। প্রত্যেক জেলায় যুব প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে বটে, কিন্তু প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা খুবই সীমিত। এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নামমাত্র ফি এবং স্বল্পমেয়াদি সময়োপযোগী বিষয়ে বেকার যুবদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমেও কর্মসংস্থানে আগ্রহী করে তোলা সম্ভব। কর্মসংস্থানযুক্ত কর্মসূচি করোনাকালের অস্বস্তিময় জীবনে স্বস্তি আনতে পারে।
মো. কামরুজ্জামান
প্রভাষক (ব্যবস্থাপনা বিভাগ),
টিঅ্যান্ডটি কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা