বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক

অর্থ বরাদ্দ স্থগিত হওয়ায় সম্প্রসারণ অনিশ্চিত!

আটকে গেছে বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ। বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে। কবে থেকে আবার কাজ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ দিকে সম্প্রসারণ কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকায় নিয়ম অনুযায়ী ঐ মহাসড়কের বার্ষিক সংস্কার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সংস্কারের অভাবে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় অতিবৃষ্টিতে খানাখন্দগুলো রীতিমতো বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। এতে ঐ মহাসড়কে যান চলাচল চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বগুড়া শহরের মাইক্রোবাসের চালক শাহিন হোসেন জানান, বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের অবস্থা এখন এতটাই খারাপ যে, রাজশাহী যেতে হলে বগুড়া-নওগাঁ হয়ে অতিরিক্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে যেতে হচ্ছে।  সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকল্পটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দেখিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য সওজের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তদবির চালানো হচ্ছে। তবে সরকারের প্রকল্পের তালিকায় ‘সি’ ক্যাটাগরি (কম গুরুত্বপূর্ণ) হওয়ায় সে চেষ্টা তদবির আদৌ সফল হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বগুড়া থেকে নাটোর হয়ে রাজশাহী পর্যন্ত সড়কটি অর্ধশতাব্দীরও বেশি আগে ১৯৬২ সালে নির্মাণ করা হয়। বগুড়া জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত ঐ সড়কটির প্রশস্ততা ছিল ১৮ ফুট। ১৯৮০ সালে ঐ সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আসে। খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের বিভাজক পদ্মা নদীর ওপর পাবনা জেলার ও ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা অংশে ২০০৪ সালে ‘লালনসেতু’ নির্মাণের পর বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে যান চলাচল কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে সড়কটির প্রশস্ততা বাড়ানো হয়নি। সওজের হিসেব অনুযায়ী বর্তমানে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ ঐ মহাসড়কটিকে ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুট (মূল সড়ক ২৪ ফুট এবং দুপাশে ৫ ফুট করে হাঁটার পথ) প্রশস্তকরণের জন্য সওজর পক্ষ থেকে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের অর্থনৈতিক কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৭০০ কোটি টাকা অনুমোদন দেয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এর টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে দ্রুত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। সড়কটি প্রশস্ত হলে বিনিয়োগকারীরা উত্সাহিত হবেন।  সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানান, এই প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ আপাতত স্থগিত বা কেটে রাখার কথা আমরা শুনেছি। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটিতে অর্থ বরাদ্দের জন্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত ইতিবাচক কিছু হবে।