কোটালীপাড়ায় অবাধে চলছে শামুক নিধন

কোটালীপাড়া উপজেলায় অবাধে চলছে শামুক নিধন। ফলে হুমকিতে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। অপরদিকে এভাবে শামুক নিধনে কৃষি জমির উর্বরতা কমছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। প্রতি বছর আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত উপজেলার লখণ্ডা, পিড়ারবাড়ী, নৈয়ারবাড়ী, রামনগর, কলাবাড়ী, কুমুরিয়া, সাতুরিয়াসহ বিভিন্ন বিল থেকে শামুক সংগ্রহের পর তা চলে যায় বাগেরহাট জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। উপজেলার পিড়ারবাড়ী গ্রামের শিক্ষানুরাগী অরুন মল্লিক বলেন, প্রতিদিন আমাদের বিল থেকে শত শত মানুষ শামুক সংগ্রহ করে এলাকার ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করে। এভাবে শামুক নিধনের ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়েছে। অপরদিকে দিন দিন জমির উর্বরতাও কমে যাচ্ছে। শামুক সংগ্রহকারীর রামনগর গ্রামের অখিল বাগচী বলেন, আমরা রামনগর বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করে বিক্রি করি। প্রতি বালতি শামুকে আমাদের ৮০ টাকা করে দেওয়া হয়।  ব্যবসায়ী বিপুল মল্লিক বলেন, প্রতিদিন দেড় থেকে ২০০ বস্তা শামুক বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটে বিক্রি করি। প্রতি বস্তা শামুকের জন্য আমাদের ৩০০ টাকা করে দেয়। আষাঢ় মাস থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত এই ব্যবসা চলে।  উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, শামুক নিধনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মত্স্য আইনে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে আমাদের দপ্তর থেকে শামুক নিধন না করার জন্য মানুষকে উত্সাহিত করছি।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, যারা নির্বিচারে শামুক নিধন করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।