ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার হাটশিরা গ্রামের গৃহস্থপুত্র সোহেল মিয়ার (৩০) লালসার শিকার ১৫ বছরের এতিম কিশোরী এখন ৭ মাসের অন্ত:সত্ত্বা!
জানা গেছে একই গ্রামের পিতৃহারা ওই কিশোরী প্রায় ৮ মাস পূর্বে ওই যুবকের বাড়িতে বাঁশ-বেতের কাজ করতে যায়। তখন খালি ঘরে মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে সোহেল মিয়া। এরপর তার হুমকির মুখে ওই কিশোরী ঘটনাটি কাউকে জানায়নি। কিন্তু ৭ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হওয়ার পর এ ঘটনা জানাজানি হয়।
এ নিয়ে এলাকায় দেন-দরবার হলেও ধর্ষক যুবক ও তার পরিবার ওই কিশোরীকে ঘরে তুলে নিতে রাজি হয়নি। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী ও তার পরিবার অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের স্বীকৃতির জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ধর্ষক যুবক সোহেল উপজেলার হাটশিরা গ্রামের ইউসূফ আলীর ছেলে। কিশোরীর বাড়িও একই গ্রামে।
ওই কিশোরী সাংবাদিকদের জানায়, ‘গত রমজান মাসে পেটের দায়ে প্রতিবেশী সোহেলের বাড়িতে বাঁশ বেতের কাজ করতে যাই। এ সময় বাড়িতে কোনো লোকজন না থাকার সুযোগে সোহেল তার ঘরে নিয়ে মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর এ ঘটনা প্রকাশ করলে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় সোহেল। মৃত্যুর ভয়ে এ ঘটনা কাউকে জানাইনি।’
পরবর্তীতে ওই কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে ঘটনাটি তার মাকে জানায়। ৩ জানুয়ারি স্থানীয় এক ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে প্রেগনেন্সি পরীক্ষায় জানা যায়, ওই কিশোরী ৭ মাসের অন্ত:সত্ত্বা।
কিশোরীর মা জানান, ‘এ ঘটনা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিকে জানালে ৪ জানুয়ারি ধর্ষক পরিবারের উপস্থিতিতে একটি দেন-দরবার হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন সোহেলের বাবা ইউসূফ আলীকে কিশোরীকে পুত্রবধূ হিসেবে ঘরে তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি এতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।’
আরও পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের দায়িত্ব পেলেন কৃষকের মেয়ে
ধর্ষকের পিতা ইউসূফ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ওই কিশোরীকে পুত্রবধূ হিসেবে ঘরে আনার জন্য তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। এ সময় ওই কিশোরীর নামে ৩০ শতক জমি লিখে দেয়ার প্রস্তাব ও ৫ লাখ টাকার কাবিন দাবি করা হয় তার কাছে। তাই এ ঘটনাটির কোন আপোস-মীমাংসা হয়নি।’
ইত্তেফাক/নূহু