হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জব্দ ইয়াবার চেয়ে শক্তিশালী মাদক অ্যামফিটামিন পাউডার কীভাবে বাংলাদেশে এসেছে জানতে পারেনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তবে গন্তব্য ছিল হংকং হয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা। উল্লেখ্য, বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সমন্বিত অভিযানে জব্দ করা হয় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াগামী ১৪টি বড় প্যাকেট। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মামলার তদারকি কর্মকর্তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো. অতিরিক্ত পরিচালক (উত্তর) মুকুল জৌতি চাকমা বলেন, গ্রেফতারকৃতদের গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ডে আনা হবে। তিনি বলেন, এই মাদকের চোরাচালানের পেছনে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ এই মাদক কোথা থেকে বাংলাদেশে এসেছে তা জানা যায়নি। বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মহাপরিচালক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে জানা হয়, নেপচুন ফ্রেইট লিমিটেডের উত্তরার আশকোনায় একটি অফিস রয়েছে এবং ঐ অফিসের রুবেল হোসেন নামের এক ব্যক্তি সাতটি কার্টনে তৈরি পোশাক-জিন্সের প্যান্ট অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর জন্য ইউনাইটেড এক্সপ্রেস লিমিটেডে বুকিং দিয়ে যায়।
বনানীর ইউনাইটেড ফ্রেইটের পরামর্শক্রমে ইউনাইটেড এক্সপ্রেস লিমিটেড নামীয় প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো নেপচুন ফ্রেইট লিমিটেডের ঐ সাতটি কার্টন গ্রহণ করে বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ইউনাইটেড এক্সপ্রেস লি. কার্টনগুলো বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লিমিটেডে প্রেরণ করে।
এক প্রশ্নের জবাবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর ওপর নজর রাখছি। কেউ যাতে কোনোভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসকে ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে মাদকের চোরাচালান করতে না পারে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) ডিআইজি মাসুম রব্বানী বলেন, এই মাদক বাংলাদেশে উত্পাদন হয় না। পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার ও চীন উত্পাদন করে। সেখান থেকে কোনো না কোনোভাবে এটি বাংলাদেশে আসতে পারে।
মহাপরিচালক বলেন, জব্দকৃত অ্যামফিটামিন পাউডারের আনুমানিক কেজি প্রতি মূল্য ২ কোটি টাকা। সে হিসাবে জব্দ ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম অ্যামফিটামিন পাউডারের মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছেন, অ্যামফিটামিন ইউরোপে বহুল ব্যবহূত। এই মাদকের গন্তব্য ছিল হংকং হয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। —‘প্রাপক দাস সিং, ৩৪ কলম্বিয়া রোড, মেলবোর্ন নারে ওয়ারেন লিআইসি ৩৮০৫।’