প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের শুরু করা এবং তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে তার সরকার অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, বিশ্বের যেখানেই করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হোক না কেন সেটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সংগ্রহ করা হবে, সরকার এ ব্যাপারে সবধরনের প্রস্তুতি ও অর্থ বরাদ্দ রেখেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কারা শুরু করেছিল? এটা জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই শুরু। আমাদের বহু নেতাকর্মীর লাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তারপরে তো একেবারে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলো এবং সেই ধারাবাহিকতা রয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি এটাকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমালোচনা করা ভালো, কিন্তু পাশাপাশি এটাও দেখতে হবে আমাদের মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা যথাযথ কাজ করে যাচ্ছে এবং তারা যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে। তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। আমরা কিন্তু কাউকে ছেড়ে দিচ্ছি না। কেউ এটা বলতে পারবে না যে অন্যায় করলে আমরা ছেড়ে দিচ্ছি। তিনি বলেন, এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যেন তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ভীত হয়ে তাদের কাজের উত্সাহ নষ্ট হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। সমালোচনা ভালো, কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে।
করোনা মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ভ্যাকসিনের ব্যাপারে বিভিন্ন দেশ গবেষণা করছে। সব দেশেই আমরা আবেদন দিয়ে রেখেছি। এর জন্য টাকাও বরাদ্দ করে রেখেছি। যেখান থেকে আগে পাওয়া যায় আমরা সেটা নেব। দেশের মানুষকে করোনা থেকে মুক্ত করার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার তা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী করোনা মহামারির মধ্যে পরপর ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কথা তুলে ধরে বলেন, বিপদ আসবে, আবার তা মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা সেই প্রস্তুতি নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। বিপদে ভীত হলে চলবে না। বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা সেটা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা জনগণের সেবা করেই জাতির পিতার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করব।
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারায়গণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দুর্ঘটনাকবলিত মসজিদটি গ্যাস পাইপলাইনের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। ঐ স্থানে মসজিদ নির্মাণে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতিও ছিল না। ভবিষ্যতে কোনো স্থাপনা নির্মাণে নীতিমালা মেনে করার আহ্বান জানান সংসদ নেতা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নামাজ পড়া অবস্থায় বিস্ফোরণের ঘটনায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। এ ঘটনা সত্যিই খুব দুঃখজনক। এভাবে অননুমোদিত ও অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করার ফলে আজ এ দুর্ঘটনা ঘটে গেল।
ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধী দলের উপনেতার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির দাম যদি বেশি হয়, পানি কম ব্যবহার করেন। কোনো অপচয় করবেন না—তখন বিল অবশ্যই কম আসবে। আর ভালো জিনিস নিতে হলে তো একটু পয়সা দিয়ে নিতে হয়। ওয়াসার পানি কোনো খারাপ পানি না, অত্যন্ত চমত্কার পানি। এ সময় তিনি সবাইকে ব্যক্তিগত পানির লাইনগুলো ৬ মাস পর পর চেক করা, পানির ট্যাংকিগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।
সংসদে বিরোধী দলের সরব উপস্থিতির জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পার্লামেন্টে যেসব বিল পাশ হলো, এখানে কিন্তু আমাদের সরকার দলীয় কেউ কথা বলার সুযোগই পায়নি। একমাত্র বিরোধী দলেরই দখলে ছিল এই পার্লামেন্ট এবং তারাই কথা বলে গেছে।