ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরো ৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এরা হলেন আব্দুস সাত্তার (৪০), শেখ ফরিদ (২১) ও নজরুল ইসলাম (৫০)। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩১ জনে। এ দিকে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলে সাত দিন সময় চেয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা ছিল। তবে এ জন্য আরো সাত দিন সময় চেয়েছেন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি আরো সাত দিনের সময় চেয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে তথ্য নিতে আরো কিছু সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তবে যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার পর ঢাকা থেকে সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
এদিকে তিতাসের তদন্ত কমিটির সময়ও বাড়ানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি অচিরেই রিপোর্ট দেবে বলে জানা গেছে। তিতাসের পক্ষ থেকে এখনো বলা হচ্ছে মসজিদ বর্ধিতকরণের সময় গ্যাসলাইন সরাতে গিয়ে এই লিকেজের সৃষ্টি হয়। মসজিদের বর্ধিত অংশ, এমনকি মসজিদেরও কোনো সংস্থার অনুমোদন ছিল না।
তিতাসের তদন্ত কমিটির প্রধান মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পরিকল্পনা আবদুল ওহাব জানান, মসজিদের উত্তর পাশ বর্ধিত করা হয়েছে। সেখানে ফাউন্ডেশন দেওয়ার সময়ে মসজিদের চার নম্বর কলাম স্থাপনের সময়ে নিচে আমাদের পাইপলাইন ছিল। ফাউন্ডেশনের কলাম বসাতে গিয়ে পাইপলাইনের র্যাপিং নষ্ট করে ফেলে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। এ কারণে গ্যাসের পাইপ মাটির সংস্পর্শে এসে এতে ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। ঐ একটি কলামের ফাউন্ডেশনের নিচেই লিকেজগুলো পাওয়া গেছে। লিকেজ বন্ধ করার পরে আর মসজিদের ভেতরে কোনো গ্যাস পাওয়া যায়নি। এতেই প্রতীয়মান হয় একটি কলাম বাড়ানোর সময়ে ফাউন্ডেশন দিতে গিয়ে নিচে থাকা গ্যাসের পাইপের র্যাপিং নষ্ট করে ফেলা হয়। বিদ্যুত্ বিভাগের লোকজন বলেছে, বিদ্যুতের কোনো ধরনের সমস্যা এখানে ছিল না। ফায়ার সার্ভিস অবশ্য শুরু থেকেই গ্যাস লিকেজের বিষয়টিতে জোর দিয়েছে। তবে এলাকাবাসীর মতে বিদ্যুত্ বিভাগেরও কিছুটা দায় রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ফ্লোরের নিচ দিয়ে গ্যাসের লাইন গেছে এবং আগুন নেভানোর জন্য পানি দেওয়ার পর ঐ পানিতে গ্যাসের বুদবুদ দেখা গেছে। তারা আরো বলেন, যেহেতু এসির কারণে মসজিদের দরজা ও জানালা সব সময় বন্ধ রাখা হয়, সেহেতু বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে আগুন লাগার পর জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণকে ত্বরান্বিত ও তীব্রতর করেছে। গ্যাস বা বিদ্যুত্—যে ইউটিলিটি কর্তৃপক্ষই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মসজিদ কমিটির অবহেলা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখতে হবে। গতকালও মসজিদের আশেপাশে তিতাস খোড়াখুড়ির কাজ চালিয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজের সময় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটলে অর্ধশতাধিক লোক দগ্ধ হন। গুরুতর দগ্ধ ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। গতকাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে ৩১ জন মারা গেছেন। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন বাকি ৫ জনের অবস্থাও সংকটাপন্ন।