ট্রাম্পের ‘ট্রাম্প কার্ড’ হবে অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ!

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। যদিও ইতিমধ্যে আলাবামা ও নর্থ ক্যারোলিনায় ডাকযোগে ভোট দিতে শুরু করেছেন ভোটাররা। এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে লড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যিনি এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে করোনা মহামারি মোকাবিলা করেছেন তাতে অনেক মার্কিনী খুশি নন। তার বিরুদ্ধে অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। তবে গত শুক্রবার মার্কিন শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বেকারত্বের হার কমে ৮ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা গত জুনে ১০ দশমিক ২ শতাংশ এবং এপ্রিলে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ কোর্টেস ফক্স নিউজকে বলেন, করোনার আগে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজার খুব ভালো ছিল। গত ৫০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছিল। আগস্টে বেকারত্বের হার কমেছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে এই ধারা অব্যাহত থাকলে নভেম্বরের নির্বাচনে অর্থনীতিই ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ট্রাম্প কার্ড হতে পারে।

স্টিভ কোর্টেস বলেন, অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ট্রাম্পের পক্ষে নিয়ে যাচ্ছে। এটিকে ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার একটি শুভ লক্ষণ বলা যায়। তিনি বলেন, বেকারত্ব কমায় আমাদের প্রচারণা ও অবস্থান সঠিক পথে এগোচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি জরিপে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, করোনার ধাক্কা সামলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে পুনর্জাগরণ হচ্ছে। এটা আমার মতামত নয়, বরং তথ্য-উপাত্ত এ কথা বলছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হতে মহামারির আগের অর্থনৈতিক সফলতাকে ব্যবহার করছেন। তিনি দাবি করছেন, তার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার সর্বনিম্ন হয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ ও হিসপ্যানিক কর্মীদের মজুরির পরিমাণ বেড়েছে। করোনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার বাড়লেও এখন তা ধীরে ধীরে কমে আসছে। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে মার্কিন অর্থনীতি। ট্রাম্পের দাবি, জো বাইডেন নির্বাচিত হলে মার্কিন অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে।

সিটিজেনস ব্যাংকের গ্লোবাল মার্কেট বিভাগের প্রধান টনি বেডিকিয়ান ফক্স নিউজকে বলেন, বেকারত্ব কমাতে আমরা এখনো সঠিক দিক-নির্দেশনায় রয়েছি। তবে এজন্য আরো কিছুটা সময় লাগবে।

সাম্প্রতিকালে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন শহরে দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। এই বর্ণবাদকেন্দ্রিক বিক্ষোভে ট্রাম্পের ভূমিকায় অনেক মার্কিনীর অসন্তোষ রয়েছে। আর করোনা মহামারি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকায় মার্কিনীদের অসন্তোষের বিষয়টিতো রয়েছেই। জো বাইডেন এই দুই ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আক্রমণ করে চলেছেন। এমন অবস্থায় করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতির পুনর্জাগরণ ট্রাম্পকে দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন সেদিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন।