এক ব্রাহ্মণ তাঁর এক শিষ্যের কাছ থেকে একটি ছাগল উপহার পেলেন। তিনি ছাগলটিকে তাঁর কাঁধে চড়িয়ে বাড়ি নিয়ে আসছিলেন।
পথে তিন শঠ লোকের দৃষ্টি পড়ল ব্রাহ্মণের কাঁধের ছাগলটার ওপর। তারা ছাগলটি দিয়ে ভোজের আয়োজন করবে বলে ফন্দি আঁটল। এক শঠ মিহি স্বরে বলল, ‘পণ্ডিতজি, আপনি কুকুরটিকে কাঁধে চড়িয়ে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?’ ব্রাহ্মণ চেঁচিয়ে বললেন, ‘কী সব বাজে বকছ? এটা কুকুর কেন হবে? আমার কাঁধে তো আস্ত একটা ছাগল। তুমি কি অন্ধ?’ শঠ লোকটি যেতে যেতে বলল, ‘আপনার মতো জ্ঞানীজন যদি কুকুরকে ছাগল বলেন তাহলে আমার কিছু বলার থাকে না।’
ব্রাহ্মণ শঠ লোকটিকে বকতে বকতে বাড়ির পথে এগোতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় শঠ ব্রাহ্মণের মুখোমুখি হলো। সে বলল, ‘মহাশয়, আপনি একজন সম্মানীয় পুরোহিত। কেন আপনি একটি কুিসত্ কুকুরকে কাঁধে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন? এটা আপনার মর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়।’ এবারে ব্রাহ্মণ রেগে আগুন হয়ে গেলেন। রাগত স্বরে বললেন, ‘কে বলেছে এটা কুকুর? তোমার যদি চোখ থাকে তবে ভালো করে দেখো। এটা একটা ছাগল।’ শঠ লোকটি কণ্ঠে ঝাঁজ মিশিয়ে বলল, ‘আপনি ওটাকে ছাগল, গরু কিংবা হরিণ—যা-ই বলুন না কেন, আসলে ওটা একটা কুকুর বৈ কিছু নয়।’ একথা বলে সে হনহন করে হেঁটে চলে গেল।
এবারে ব্রাহ্মণ কিছুটা দ্বিধায় পড়ে গেলেন। তিনি মনে মনে ভাবলেন, একে অপরের কাছে অপরিচিত দুই ব্যক্তি কি একই রকম ভুল করতে পারে? তবে তা সত্ত্বেও তিনি সেটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেন। ওটাকে বাড়িতে নিয়ে ভালোভাবে পরখ করা যাবে।
সহসা তৃতীয় শঠ দেখা দিল। সেও ব্রাহ্মণকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘কুকুরটিকে কাঁধে নিয়েছেন কেন পুরুত মশাই? লোকে আপনার সম্পর্কে কী ভাবছে বলুন দেখি?’
এবারে ব্রাহ্মণের মনে সন্দেহ রইল না যে কোথাও কোনো গলদ রয়েছে। ঐ তিন ব্যক্তির সবাই মিথ্যাবাদী হতে পারে না। তিনি নিশ্চয়ই একটি কুকুরই বহন করে চলেছেন।
অবশেষে তিনি চরম বিরক্তির সঙ্গে ছাগলটিকে কাঁধ থেকে নামিয়ে মাটিতে ছেড়ে দিয়ে শূন্য হাতে বাড়ির পথ ধরলেন। আড়াল থেকে বিষয়টি দেখে শঠেরা আনন্দে আত্মহারা।
এদিকে ছাগলটি ছাড়া পেয়ে মাঠে সবুজ ঘাস খেতে লেগে গেল। ব্রাহ্মণ চোখের আড়াল হতেই তিন শঠ একসঙ্গে ছাগলের কাছে ছুটে এলো। তারা ছাগলের মাংসে ভূরিভোজন করবে বলে আনন্দে ডগমগ।
পুনঃকথন :আহমেদ জসিম
অলংকরণ :অবিনাশ আচার্য