এম এ মাসুম
করোনায় দেশের অর্থনীতি বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে ব্যাংকগুলো প্রযুক্তি উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগী হয়েছে। গ্রাহকরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে যাতে লেনদেন করতে পারে সে জন্য ডিজিটাল ব্যাংকিং উন্নয়নে ব্যাপক প্রচেষ্টা শুরু করে। করোনার এই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক গ্রাহকের সুবিধার জন্য চালু করেছে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের নানা সুবিধা। বিমাযুক্ত আমানত পণ্য চালু, সহজে অনলাইনে টাকা ট্রান্সফার, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, অনলাইনে কেনাকাটাসহ বিশেষ কিছু নতুন পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে দেশের কিছু ব্যাংকে। কয়েকটি ব্যাংক বিভিন্ন দেশীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকদের জন্য ঘরে বসে চলতি মূলধন ঋণের আবেদনের জন্য নতুন অ্যাপস চালু করেছে। এর ফলে পরিবেশকেরা ঋণের প্রয়োজন হলে অ্যাপসে আবেদন করতে পারেন এবং ঋণ অনুমোদন হলে টাকা হিসাবে চলে যায়।
ব্যাংকে প্রযুক্তি ব্যাপক বিস্তার লাভ করলেও মহামারি দীর্ঘায়িত হলে তা কীভাবে করা যায় এবং ব্যাংকিং সেবা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায় তা নিয়ে প্রযুক্তি বিকাশে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরের চেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যাংকিং সেবায় যোগ হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম, অনলাইন সিআইবি রিপোর্ট, ক্রেডিটকার্ড, ডেবিটকার্ড, ভিসাকার্ডের মাধ্যমে ই-বাণিজ্য। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি খাতের সবগুলো ব্যাংকই এখন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা—যেমন রেমিট্যান্স বিতরণ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, এটিএম ইত্যাদি সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। এত কিছুর পরও মহামারি ব্যাংকিং কার্যক্রমকে গতিহীন করে দেয় এবং ব্যাংকগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ব্যাংকগুলো বর্তমানে অত্যাধুনিক অটোমেশন বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।