দুর্ভোগে নারায়ণগঞ্জবাসী
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণয়গঞ্জের ফতুল্লার তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নানা অনিয়মের তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ, সংযোগ সংস্কারের নামে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এমনকি গত কয়েক বছর ধরে বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া বন্ধ থাকলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাঁত করে দালাল চক্র অবৈধভাবে বাসাবাড়িতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গ্যাসের সংযোগ দিচ্ছে। চাষাঢ়া বালুর মাঠে অবস্থিত তিতাস গ্যাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে।
সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় গ্যাস সরবরাহের জন্য ১৯৬৪ সালে গঠিত হয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। লাকড়ির চুলা বা কেরোসিনচালিত স্টোভের পরিবর্তে গ্যাসের চুলায় রান্নার সুযোগ পেয়ে খুব স্বস্তিবোধ করেছিলেন ঢাকাবাসী। পরে এই সুযোগ নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে বিস্তৃত হলেও তিতাসের গ্রাহকদের সেই স্বস্তি আর থাকেনি। দিনে দিনে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটি। বছর বছর গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হলেও গ্রাহকসেবার মান যাচ্ছেতাই। আমলে নেওয়া হয় না গ্রাহকদের সব অভিযোগও। তিতাসের এনফোর্সমেন্ট টিম গ্যাসলাইনের সমস্যা অনুসন্ধান ও সমাধানের দিকে নজর না দিয়ে বরং প্রকৃত বিল গোপন করা, অবৈধ সংযোগ, মিটার টেম্পারিং ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেছনেই বেশি সময় ব্যয় করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাসের অবৈধ সংযোগের মাধ্যমেই চলছে। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে তিতাসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী রাতারাতি ধনী হয়ে যাচ্ছেন। ঘুষ পেয়ে তিতাসের অসাধু লোকজন আবাসিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ না করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতি বেশি যত্নবান হন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে তিতাসের গ্যাসলাইনের পাইপের বেহাল দশা। প্রায়ই গ্যাসলাইনের পাইপ লিকেজ হওয়ার খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু তা নিয়ে চিন্তিত নয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। অনেক ক্ষেত্রে লিকেজের বিষয় জানালেও ঘুষ দাবি করা হয়।
এ ব্যাপারে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মফিজুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ তিতাসের কার্যালয়ে দুর্নীতির প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না।