গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ

২৫ ভাগই ঘটে অবৈধ সংযোগের ছিদ্র থেকে

দেশে নিয়মিত বিরতিতে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ ঘটছে। এ বিস্ফোরণের অন্তত ৪০ শতাংশ ঘটছে পাইপলাইনের ছিদ্র থেকে। এ ছিদ্রগুলোর একটি বড় অংশ তৈরি হয় পুরোনো মেয়াদোত্তীর্ণ পাইপ এবং সেগুলো সংরক্ষণে অবহেলার কারণে। আর এ নাজুক পাইপলাইন থেকে অবৈধ সংযোগ নিতে আরো বেশি ছিদ্র তৈরি করছে দুর্বৃত্ত চক্রগুলো। ফলে গ্যাস বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনার ২৫ শতাংশই ঘটছে অবৈধ লাইনের এসব ছিদ্র থেকে।

ফায়ার সার্ভিস এবং গ্যাস বিতরণকারী ছয়টি কোম্পানি, বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত দুর্ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের পরিবার এবং স্থানীয়দের সূত্রে এ তথ্য পাওয়া যায়। তারা জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার জন্য এই দুর্বৃত্ত চক্রে গ্যাস বিতরণ কোম্পানির এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, ইউটিলিটি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত রয়েছে। এ চক্র গ্রাহকদের গ্যাসের চাহিদা অবৈধভাবে পূরণ করলেও মরণ ফাঁদে পরিণত করেছে গ্যাসের এসব লাইনগুলো।  এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলো, যেখানে গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (টিজিটিডিসিএল)।

পেট্রোবাংলা জানায়, দেশে ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির অধীনে ৪৩ লাখ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ আবাসিক খাতের। মোট সংযোগের ৬০ শতাংশের বেশি তিতাস গ্যাস কোম্পানির। বর্তমানে তিতাসের গ্রাহক সংখ্যা ২৮ লাখ ৬৬ হাজার। এর মধ্যে ২৮ লাখ ৪৬ হাজার ৪১৯ জন আবাসিক গ্রাহক। সম্প্রতি এ সংখ্যার বাইরে তিতাস আরো প্রায় ১ লাখ অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত করেছে যা এখনো বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। আর তিতাসের শনাক্তের বাইরেও কয়েক লাখ অবৈধ সংযোগ রয়েছে। যা তিতাসের বার্ষিক হিসাবে ‘‘সিস্টেম লস’’ হিসেবে দেখানো হয়। তিতাসের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ এবং নরসিংদীতে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার অবৈধ পাইপলাইন রয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবৈধ পাইপলাইন নারায়ণগঞ্জ সদর, রূপগঞ্জ, বন্দর, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ উপজেলায়। এ জেলায় মোট ১৭৯ কিলোমিটার অবৈধ লাইন রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন জানান, তিতাস গ্যাসের অনেক লাইন ৪০-৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো। এগুলোর পাশাপাশি গ্যাসের অবৈধ লাইনের কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। গত সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জে মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনার পর দেখা যায়, মসজিদের পাশ দিয়ে যে লাইন গিয়েছে তা অন্তত ৩০ বছরের পুরোনো। সেটি এবং এর সংলগ্ন লাইন থেকে অনেকগুলো অবৈধ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, অবৈধ সংযোগ এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে তৈরি ছিদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস জমে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটেছিল।

এ প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মো. আল মামুন বলেন, পুরোনো পাইপলাইন সরিয়ে নতুন লাইন প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। অবৈধ লাইন তৈরিতে বা সংযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের অনেকেও জড়িত রয়েছে। সেই চক্র ভাঙতে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কাজ করছি।