বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর শরীরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা

২ লাখ টাকা যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ মিলে বরগুনার তালতলী উপজেলার বড় আমখোলা গ্রামের গৃহবধূ মার্জিয়াকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা এবং চুল কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিত গৃহবধূকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে উপজেলার বড় আমখোলা গ্রামের আব্দুল খালেক খানের মেয়ে মার্জিয়ার সঙ্গে বরগুনা সদর উপজেলার ধুপতি গ্রামের আনোয়ার খানের ছেলে মানিক খানের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে শ্বশুর খালেক খান তার মেয়েজামাই মানিককে ২ লাখ টাকা দেন। ঐ টাকা দিয়ে মানিক শ্বশুর বাড়ির পাশে একটি বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তাদের দুইটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তিন বছর আগে মানিক ঢাকা চলে যান। গত বৃহস্পতিবার মানিক শ্বশুর বাড়ি আসেন এবং স্ত্রীকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। ঐদিন রাত ১১টার দিকে মানিক ব্যবসার কথা বলে স্ত্রীকে তার বাবার কাছ থেকে আরো ২ লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। মার্জিয়া রাজি না হওয়ায় তার ওপর নির্মম নির্যাতন করা হয়।

সরেজমিনে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, খুন্তির ছ্যাঁকা নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মার্জিয়া। তার শরীরের পোড়া স্থানগুলোতে ফোসকা পড়ে কালো ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। মাথার পেছনের দিকের চুল কেটে ফেলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী সূর্য্যভানু বলেন, রাতে মানিক খানের বাড়িতে চিত্কার শুনে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি মার্জিয়াকে তার স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ মিলে মারধর করছে। শরীরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিচ্ছে। আমি যাওয়ার পরে তারা মার্জিয়াকে ছেড়ে দেয়। গুরুতর আহত মার্জিয়াও সাংবাদিকদের কাছে একই অভিযোগ করেন।

তবে তার স্বামী মানিক খান যৌতুক চাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘একটু ঝগড়া-ঝাটি হয়েছে। কিন্তু খুন্তির ছ্যাঁকা দেইনি।’ অন্যদিকে, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার নিখিল চন্দ  বলেন, মার্জিয়ার শরীরের ১২টি স্থানে আগুনে পোড়ানোর চিহ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।