এ বছর গাইবান্ধায় সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩১ আগস্টের মধ্যে অর্জিত না হওয়ায় সময় বর্ধিত করা হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান-চাল ক্রয়ের সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. রিয়াজুর রহমান রাজু জানান। গাইবান্ধা জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর কৃষকদের কাছ থেকে ২৩ হাজার ৮৬২ মেট্রিক টন ধান ও মিলারদের কাছ থেকে সিদ্ধ চাল ২৩ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন এবং ১ হাজার ৬২৮ মেট্রিক টন আতপ চাল ক্রয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছরের ৭ মে থেকে সরকারিভাবে ধান চাল ক্রয় শুরু করা হয়। ধান চাল ক্রয়ের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা ৩১ আগস্ট। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। সাদুল্লাপুর উপজেলার হবিবুল্লাপুর গ্রামের কৃষক আবেদ আলী আকন্দ (৫৫) বলেন, প্রতি বছর সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করি, এবার করিনি। কিন্তু এবার বাজারেই ভালো দাম পাচ্ছি।
একই উপজেলার ছান্দিয়াপুর বসনিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক সামিয়ূর রহমান (৪৫) বলেন, এবার দাম বেশি পাওয়ায় আমরা স্থানীয় বাজারে ধান বিক্রি করেছি। গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারি এলাকার মিলার টিপু মিয়া বলেন, চাল ক্রয় শুরুর প্রথম দিকে কিছু চাল দিয়েছি। পরে বাজারে চালের দাম বাড়ায় সরকারি গুদামে আর চাল দেইনি। তিনি বলেন, চালের বরাদ্দ পেয়েছি ছয় মেট্রিক টন। প্রতি কেজিতে ৫ টাকা লোকসান হলে কত টাকা লোকসান হবে। লোকসানের ভয়ে মিলাররা সরকারি গুদামে চাল দিচ্ছেন না। জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো. রিয়াজুর রহমান রাজু বলেন, কৃষকরা এবার বাজারে ভালো দাম পেয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি গুদামে ধান দিতে আর্দ্রতার একটা বিষয় থাকে। এসব কারণে তারা সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হননি। মিলাররা চাল দিতে পারেননি। তবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান-চাল ক্রয়ের সময় বর্ধিত করা হয়েছে। আশা করা যায়, লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছা যাবে। তবে এই সময়ের মধ্যে কোনো মিলার চাল দিতে না পারলে, তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।