চেতনায় বঙ্গবন্ধু

সাদিয়া সাবাহ্

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

দৈনিক ইত্তেফাক এর ‘অনুশীলন স্কুলে-স্কুলে’ ও স্বপ্ন ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন আয়োজিত ‘শেখার জন্য লেখা’ এর এবারের বিষয় ছিল ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’। শোকের মাস আগষ্ট এ আমরা স্মরণ করছি জাতির মহানায়ককে এবং তাঁর অবদানকে। আর তার আদর্শকে ধারণ করা নতুন প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনাকে তুলে ধরতেই এবারের আয়োজনে ছিল ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’।  আজ এই প্রতিযোগিতার তৃতীয় জনের লেখা ছাপানো হলো ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতায়।

 

 

একটি দেশ স্বাধীনতার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করে।“স্বাধীনতা”কেউ-ই দান করে না, এটা অর্জন করতে হয়। ”বাংলাদেশ” নামের অল্প আয়তনের এই দেশটির জন্মের পিছনে রয়েছে বাঙালি জাতির অসংখ্য ত্যাগ ও তিতিক্ষা কিন্তু শুধু ত্যাগ ও তিতিক্ষা থাকলে হয় না। একজন পথপ্রদর্শক ও প্রয়োজন। সে পথপ্রদর্শক -এর চেতনায় উদ্দীপিত হয়েই মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত হয়। আর বাংলাদেশের এই নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯২০ সালের ১৭ ই মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন। “আমি হিমালয়কে দেখিনি শেখ মুজিবকে দেখেছি। তার ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতা আমার কাছে হিমালয়ের সমান। “-ফিদেল ক্যাস্ত্রো।

তিনি ছিলেন নির্ভীক। বাঙালির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন। বাঙালির দুঃখে কাঁদতেন,বাঙালির সুখেই হাসতেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সবখানেই ছিল তার দৃঢ় পদচারণা। তার নেতৃত্বে আমরা অর্জন করেছি আমাদের স্বাধীনতা। তাঁর নেতৃত্বের অসাধারণ গুণাবলি করেছে মহান। তিনি সাধারণ বাঙালিকে ভালোবেসে চিরকাল পাশে ছিলেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে পাকিস্তানী ঘাতক -দালালরা তাকে হত্যা করতে না পারলেও কিছু বেঈমান বাঙালি তাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট সপরিবারে হত্যা করেছে। কতটা নিষ্ঠুর এই হত্যাকাণ্ড! এক রাতেই বাঙালি নিঃস্ব হয়ে গেল। ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে প্রাণে মেরে ফেলেছে। কিন্তু চেতনা কি নিঃশেষ করতে পেরেছে? আদৌ কি বঙ্গবন্ধুর চেতনা শেষ হওয়ার? এদেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণী আজও বঙ্গবন্ধুর চেতনায় উজ্জীবিত হয়। তারা এখনো অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে রাজপথে নামে,অত্যাচার আজও সহ্য হয়না।এরা এখনো অধিকার আদায়ে সচেতন। বাংলাদেশ যখনই কোনো ঘোর অন্ধকারের দিকে পতিত হওয়ার মুখোমুখি, বঙ্গবন্ধু আদর্শ এবং চেতনা এদেশের তরুণদের আবারো উজ্জীবিত করবে এবং তরুণরা সকল সমস্যার সমাধান করবে।

২০২০ কে সরকার মুজিববর্ষ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। করোনার জন্য যদিও মুজিববর্ষ স্বল্প পরিসরে আয়োজিত হয়েছে । কিন্তু তরুণ প্রজন্ম দেখিয়ে দিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর চেতনা তাদেরকে কতটুকু তাড়িত করে। তারা পাশে ছিল সকল মানুষের। তারা বৃক্ষরোপন সহ নানা ধরণের কার্যক্রম ও করেছে।

বঙ্গবন্ধুর চেতনায় এগিয়ে যাবে আমাদের সোনার বাংলা।