নববর্ষের সন্ধ্যা। নেলি একজন জমিদারের যুবতী সুন্দরী মেয়ে। একসময় রাতদিন বিয়ের স্বপ্নে অর্ধর্নিমিলিত চোখে আয়নার দিকে চেয়ে থাকত। সে ফ্যাকাশে চোখে নিশ্চুপভাবে আয়নার দিকে তাকিয়ে আছে। সরু করিডোরে সারিসারি মোমবাতি, মোমবাতির আলো তার শরীর আর হাত দু’খানার ওপর প্রতিফলিত। অসীম ধূসর সমুদ্রের ওপরে মেঘের আস্তরণ। তরঙ্গায়িত সমুদ্র দীপ্তি ছড়াচ্ছে, আর মাঝে মাঝে সূর্যের আলো পড়ে সমুদ্রের পানি রঙিন হয়ে উঠছে...।
নেলির নির্লিপ্ত চোখ আর ওষ্ঠদ্বয়ে নির্বিকার রূপ অবলোকন করে যে কেউ বলতে পারে তার চোখে ঘুম ঘুম ভাব লেগে আছে, নতুবা সে সবেমাত্র ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। এ অবস্থা সত্ত্বেও সে তাকিয়ে দেখছে। প্রথমে সে শুধুমাত্র মুচকি হাসি দিয়ে স্নিগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখল একজনের চোখদুটোর মোহময় অভিব্যক্তি। তারপর ধূসর পটভূমির পেছনে ধীরে ধীরে প্রকাশমান হলো একটা মাথা, একটা মুখ, ভ্রু, দাড়ি। এই লোকটাই তার স্বপ্ন ও আশার ভাগ্যনিয়ন্তা। নেলির ব্যক্তিগত সুখ, ক্যারিয়ার, ভাগ্য ও জীবনের নানা বিষয় নির্ধারিত।
আয়নার পেছনের লোকটির পাশে সবকিছুই অন্ধকারে ঢাকা, শূন্য ও অর্থহীন। তাই তার কাছে অবাক করা ব্যাপার ছিল না তার সামনের ভদ্রসভ্য হাসিখুশি মুখের একজন সুদর্শন মানুষকে দেখা;নেলি পরম সুখ সম্বন্ধে সচেতন। অনুচ্চারিত মোহনীয় স্বপ্নকে উচ্চারিত বক্তব্যে কিংবা লিখিতভাবে প্রকাশ করা যায় না। একসময় নেলি লোকটার কণ্ঠস্বর শুনতে পেল এবং তারপর সে নিজেকে দেখতে পেল তার সঙ্গে একই ছাদের নিচে শুয়ে আছে। নেলির জীবনটা লোকটির জীবনের মাঝে মিশে গেল। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধূসর পটভূমির পেছনে কেটে গেল।
নেলি নিজের ভবিষ্যেক দেখতে পেল স্বাতন্ত্র্য রূপে। ধূসর পটভূমির পেছনে ছবির পর ছবি। এক শীতের রাতে নেলি নিজেকে দেখতে পেল ডিস্ট্রিক্ট ডক্টর স্টেপান লুকিটচ-এর দরজায় নক করতে। গেটের পেছনে একটা বয়স্ক কুকুর কর্কশ কণ্ঠে থেকে থেকে ঘেউ ঘেউ করছে। ডাক্তারের বাড়ির জানালাগুলো অন্ধকারে ঢাকা। সর্বত্র নীরবতা বিরাজ করছে। নেলি ফিসফিস করে বলল, ‘ঈশ্বরের দোহাই, ঈশ্বরের দোহাই।’ অবশেষে গার্ডেনের গেট শব্দ করে খুলে গেলে নেলি ডাক্তারের রাঁধুনীকে দেখতে পেল। ‘এটা ডাক্তারের বাড়ি?’ ‘হ্যাঁ, তার মনিব ঘুমাচ্ছেন।’ তার মনিব জেগে না ওঠেন এই ভয়ে সে তার জামার হাতায় মুখ রেখে ফিসফিস করে বলল। ‘তিনি এইমাত্র জ্বরে আক্রান্ত রোগীগুলোকে দেখে বাড়ি ফিরে ঘুমুতে গেছেন, আর বলে গেছেন তাকে যেন জাগানো না হয়।’ নেলি যেন তার কথা শুনতেই পেল না। তার পাশাপাশি হেঁটে নেলি ডাক্তারের ঘরের কাছে হাজির হলো।
অন্ধকারে ঘেরা অপরিচ্ছন্ন রুমগুলো পেরোনোর সময় দুই তিনটে চেয়ার উল্টিয়ে ফেলে অবশেষে ডাক্তারের রুমে পৌঁছাল। ডাক্তার স্টেপান লুকিটচ গায়ের কোট খুলে রেখে পোশাক পরেই বিছানো হাতের ওপর মাথা রেখে বিছানায় শুয়ে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। তার পাশে নিষ্প্রভ আলো জ্বলছে। নেলি একটি কথাও না বলে ডাক্তারের পাশে বসে কাঁদতে শুরু করল। সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘আমার স্বামী অসুস্থ।’ ডাক্তার স্টেপান লুকিটচ হাতের ওপর থেকে মাথা সরিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসে আগন্তুকের দিকে ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে রইলেন। ‘আমার স্বামী অসুস্থ!’ নেলি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে চলল।‘ঈশ্বরের দোহাই, তাড়াতাড়ি করে আমার সঙ্গে চলেন। ইতস্তত করবেন না!’ ‘ওহ!’ ডাক্তার হাত নেড়ে বললেন। ‘দুই এক মিনিটের মধ্যে আসুন, তা না হলে আমার স্বামীকে বাঁচানো যাবে না।, ঈশ্বরের দোহাই।’ নেলি চোখমুখ ফ্যাকাশে, ক্লান্তির ছাপ সারা শরীরে। চোখের জল মুছতে মুছতে সে তার স্বামীর অসুস্থতার বিবরণ দিচ্ছিল। তার মনে আতঙ্কের আভাস। তার কষ্ট দেখে পাথরও যেন গলে যাবার মতো অবস্থা। কিন্তু ডাক্তারের মন কিন্তু গলছে না! তিনি নেলির দিকে চেয়ে হাতটা নাড়িয়ে বিড়বিড় করে বললেন, ‘আগামীকাল যাব।’ ‘অসম্ভব!’ নেলি চিত্কার করে কেঁদে বলল, ‘আমি জানি আমার স্বামী টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন! কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনাকে তার দেখা প্রয়োজন!’ ডাক্তার বলে উঠলেন। ‘আমি গত তিন সপ্তাহ টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগী দেখার জন্য বাইরে ছিলাম, তাই আমি এখন নিজেই বড় ক্লান্ত—আমিও সেখান থেকে টাইফয়েড জ্বরে বিকারে আক্রান্ত হয়েছি!’ নেলির চোখের সামনেই ডাক্তার নিজে তাপ থার্মোমিটার দিয়ে মেপে বললেন, ‘আমার শরীরের তাপ বেশি—বসে থাকতেই কষ্ট পাচ্ছি, তাই আমি যেতে পারছি না। আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি এখন শুয়ে পড়ব।’ কথাটা শেষ করে ডাক্তার শুয়ে পড়লেন। ‘আমি কিন্তু আপনার ওপরই ভরসা করছি।’ নেলি হতাশার সঙ্গে আকুতি জানিয়ে আবার বলল, ‘আমি আপনার পায়ে পড়ছি! সদয় হয়ে আমাকে সাহায্য করুন! একটু কষ্ট করে আপনি আমার সঙ্গে আসুন। আমি আপনার ন্যায্য ফিস দেবো, ডাক্তার সাহেব! প্রিয় ডাক্তার সাহেব!... কেন আমি আপনাকে এতটা অনুরোধ করছি বুঝতে পারছেন না!’ নেলি হতাশাগ্রস্ত হয়ে তড়িত্ বেগে বেডরুম থেকে বের হয়ে গেল।
সে ডাক্তারকে কেন এত অনুনয়-বিনয় করছিল তার কারণ...। নেলি চিন্তান্বিত ভাবে ভাবল, ডাক্তার জানেন না তার স্বামী তার কাছে কতটা প্রিয়, তার অসুস্থতার জন্য সে কতটা অসুখী, ডাক্তার তার অসুস্থার কথাকে আমলেই নিল না। সে এখন কী করবে।
নেলি স্টেপান লুকিটচ-এর কণ্ঠস্বর শুনতে পেল। ‘আপনি জেমস্টোভ ডাক্তারের কাছে যান।’ ‘তার কাছে যাওয়া অসম্ভব! তিনি এখান থেকে বিশ মাইল দূরে থাকেন। এখন আমার কাছে সময় অতি মূল্যবান। ঘোড়াগুলো বড়ই ক্লান্ত। আমরা তিরিশ মাইল দূর থেকে আপনার কাছে এসেছি। এখান থেকে জেমস্টোভ ডাক্তারের কাছে যাওয়া আমাদের সম্ভব নয়! স্টেপান লুকিটচ, আপনি আমাদের কথা বিবেচনা করে এই কাজটি করুন, আমাদের প্রতি দয়া পরবশ হয়ে আমাদের সঙ্গে আসুন।’ ‘আপনি তো আমার কথা বুঝছেন না—আমার গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে—হাত কাঁপছে—আপনি আমার কথা অনুধাবন করতে পারছে না। আমাকে একা থাকতে দিন!’
‘আপনি কিন্তু আমার সঙ্গে যেতে দায়বদ্ধ! আপনি আমার অসুস্থ স্বামীকে দেখতে যেতে অস্বীকার করতে পারেন না! এটা আপনার অহংবোধ! একটা মানুষ তার প্রতিবেশীর জন্য আত্মত্যাগ করতে দায়বদ্ধ থাকে আর আপনি একজন ডাক্তার হয়ে আমার স্বামীর বিপদে আমার সঙ্গে যেতে অস্বীকার করছেন। আমি আপনার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা রজু করব।’ নেলি অনুভব করল, সমস্ত রকমের ন্যায়নীতি বিসর্জন দিয়ে সে ডাক্তারকে মিথ্যা ভয় দেখাচ্ছে।
শুধুমাত্র তার স্বামীর জীবন রক্ষার জন্য সে ডাক্তারকে অপমান করছে। নেলির ভয়-ভীতিমূলক কথা শুনে ডাক্তার এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি পান করে ভাবলেন, মহিলাটি একজন নিচু স্তরের ভিখারিনীর মতো আচরণ করছে তার সঙ্গে। অবশেষে ডাক্তার মত পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে বসে তার জামা, প্যান্ট ও তার কোটের দিকে তাকালেন।
‘এগুলো এখানে!’ নেলি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল।’ এগুলো আপনাকে পরিয়ে দিতে আমি সাহায্য করছি। পোশাক পরে আপনি আমার সঙ্গে আসুন। আমি আপনাকে উপযুক্ত ফিস দেবো। আমি সারাজীবন আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।
কিন্তু কেন এত দুশ্চিন্তা! ডাক্তার কোট পরার পর আবার বসে পড়লেন। নেলি তাকে তুলে ধরে টানতে টানতে হলরুমে নিয়ে এল। তারপরও ডাক্তার তার ওভারকোট পরতে ইতস্তত করতে
শুরু করলেন। তার মাথার ক্যাপ খুঁজে পাওয়া গেল না। অবশেষে ডাক্তারকে নিয়ে নেলি ঘোড়ার গাড়িতে উঠল। এখন তাদেরকে তিরিশ মাইল গাড়ি চালিয়ে তার স্বামীর কাছে পৌঁছে ডাক্তারকে দেখাতে হবে।
চারদিক রাতের আঁধারে থিক থিক করছে। মুখ তো দূরের কথা একজন আরেকজনের হাতটা পর্যন্ত দেখতে পারছে না। শীতের ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। বরফ পড়ায় গাড়ির চাকা আটকে যাচ্ছে। কোচম্যান থেকে থেকে গাড়ি থামাচ্ছে এবং গাড়ি থেকে নেমে বরফ সরিয়ে দিচ্ছে। সারা রাস্তাই নেলি ও ডাক্তার নীরবে বসে আছে। ভীতিজনক অবস্থা হলেও ঠাণ্ডা ও অন্ধকারের দিকে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই।
‘গাড়ি থামাও গাড়ি থামাও!’ নেলি ড্রাইভারকে বলে উঠল। ভোর পাঁচটায় ক্লান্ত দেহে ঘোড়াগুলো তাদের গাড়িকে নেলিদের উঠোনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নেলির চোখে পড়ল তার বাড়ির পরিচিত গেটগুলো, কপিকলওয়ালা কূপ আর অশ্বশালার লম্বা সারি। অবশেষে সে বাড়ি পৌঁছাল।
‘এক মুহূর্ত অপেক্ষা করুন, আমি এখনই ফিরে আসছি।’ নেলি স্টেপান লুকিটচকে ডাইনিংরুমের সোফায় বসার ব্যবস্থা করে বললেন। ‘সামান্য একটু সময় বসুন, আমি এর মাঝে দেখে আসি তিনি এখন কী অবস্থায় আছেন।’ নেলি তার স্বামীর কাছ থেকে ফিরে এসে ডাক্তারকে সোফাতে শুয়ে পড়তে দেখলেন। তিনি সোফায় শুয়ে বিড়বিড় করতে শুরু করলেন।
‘ডাক্তার, প্লিজ!... ডাক্তার!’। ‘কে? ডোমনা!’ স্টেপান লুকিটচ মৃদুকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন। ‘আপনি কাকে ডাকছেন?’ ‘তারা মিটিং-এ বলেছিল... ভ্লাসে্সাভ... কে?... কী?’ ডাক্তারের কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে নেলি ভাবল, ডাক্তারও কি বিকারের ঘোরে বকছেন। এখন সে কী করবে? ‘এখন আমাকে অবশ্যই ডাক্তার জেমস্টোভের কাছে যেতে হবে।’
তারপর আবার অন্ধকার, ঠাণ্ডা হাওয়া, বরফাবৃত্ত বিশ্বচরাচর। নেলির শরীর-মনে ক্লান্তি। বিপর্যস্ত প্রকৃতিতে কোনো শিল্প সৌন্দর্য নেই, নেই প্রকৃতিতে ভোগান্তি থেকে মুক্তির অবলম্বন। তারপর নেলি ধূসর পটভূমিকার পেছনে দেখতে পেল তার স্বামী কেমনভাবে প্রত্যেক বসন্তকালে ব্যাংকে দাদন রাখা অর্থের সুদ দিচ্ছেন। তার স্বামীর ঘুম আসে না, তার নিজেরও ঘুম আসে না। তাদের মস্তিষ্কে ব্যথা থাকলে কীভাবে চিন্তাভাবনা করবে! নেলি তার ছেলেমেয়েদের দেখতে পেল। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, জ্বর, ডিপেথরিয়া, স্কুলের খারাপ রেজাল্ট। পাঁচ-ছয়টা লক্ষণের মধ্যে একটিতে অবধারিত মৃত্যু। ধূসর পটভূমি মৃত্যুর স্পর্শবিহীন ছিল না। একজন স্বামী ও একজন স্ত্রী একইসঙ্গে মারা যেতে পারে না। একজন বেঁচে থাকলে আরেকজনের কবর দিতে পারে। নেলি তার স্বামীকে মৃতবত্ দেখতে পেল। এই ভয়ঙ্কর ঘটনা তার কাছে বেদনা অনুষঙ্গে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। সে হলরুমে দেখতে পেল কফিন, অনেকগুলো মোমবাতি ইত্যাদি। ‘এসব কেন এখানে?’ নেলি তার স্বামীর পাণ্ডুরবর্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল। তার স্বামীর সঙ্গে কাটানো অতীত জীবনের কথাকে তার মনে হওয়াটা তার কাছে একটি নির্বোধের কাণ্ড! কিছু একটা নেলির হাতে এসে পড়লে সেই ধাক্কায় সে মেঝেয় পড়ে গেল। মেঝে থেকে ওঠার চেষ্টা করতেই সে দেখতে পেল, একটা আয়না তার পায়ের কাছে পড়ে আছে। অন্য একটি আয়না টেবিলের ওপর রয়েছে। সে আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল একটা ফ্যাকাশে অশ্রুসিক্ত মুখ। এখন আর পেছনে ধূসর রঙের পটভূমি নেই। ‘আমি অবশ্যই ঘুমিয়ে পড়ব।’ নেলি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবল।
[লেখক পরিচিতি : আন্তন পাভলোভিচ চেখভ (২৯ জানুয়ারি ১৮৬০—১৫ জুলাই ১৯৪০) রাশিয়ান ছোটগল্পকার, নাট্যকার ও চিকিত্সক। তিনি পিতামাতার ছয় সন্তানের তৃতীয় সন্তান। তাঁকে বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম সেরা ছোটগল্প লেখক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর ছোটগল্পগুলো লেখক, সমালোচকদের দ্বারা প্রভূত সমাদৃত হয়।
নাট্যকার হিসেবে পেশাজীবনে চেখভ চারটি ক্ল্যাসিকধর্মী নাটক রচনা করেন। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে এমন নাট্যকারদের মাঝে শেক্সপিয়র ও ইবসেনের পাশাপাশি চেখভের নামও উল্লেখ করা হয়।
১৮৮০ থেকে ১৯০৩ সালের মধ্যে তাঁর সর্বমোট ৬০০টির মতো সাহিত্যকর্ম রচনা ও প্রকাশ পায়। ‘থ্রি সিস্টারস’, ‘দ্য সিগাল’ এবং ‘দ্য চেরি অরচার্ড’—এই তিনটি নাটকের মাধ্যমে নাট্যকার হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। শুরুতে চেখভের লেখক হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। প্রথমদিকের গল্পগুলো জীবনযাপন ও পড়ালেখার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করার উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছিলেন, কিন্তু পরে তাঁর মধ্যে শিল্পীসুলভ উচ্চাকাঙ্ক্ষা জন্ম নিলে ক্রমে তিনি সাহিত্যচর্চার ভিন্ন রীতি ও প্রবণতার উদ্ভাবন করেন যা আধুনিক ছোটগল্পের বিকাশে বিশেষ প্রভাব রাখে।
চেখভ তাঁর সাহিত্যিক জীবনের বেশিরভাগ সময়ে চিকিত্সা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, যদিও এ থেকে তিনি সামান্যই উপার্জন করতেন। তিনি অধিকাংশ রোগীর চিকিত্সা করতেন বিনামূল্যে। তাই জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থে জোগান আসত তাঁর লেখালেখি থেকে। আন্তভ চেখভের গল্প ‘লুকিং গ্লাস’-কে বাংলায় অনুবাদা করা হলো আয়না নামে।]