বেসরকারি বিদ্যালয়ের টিউশন ফি

করোনাকাল থাকবে না এক সময়। কিন্তু এ সময়ে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে অনেক দিন লেগে যাবে, এটা নিশ্চিত। প্রতিদিন সকালে যে বিদ্যালয় মুখর থাকত শিশুদের কলকাকলিতে, সে বিদ্যালয় শূন্য হয়ে পড়ে আছে কতদিন থেকে। আমাদের দেশে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাব্যবস্থা সরকারের পাশাপাশি শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখছে, যদিও এক্ষেত্রে অনেক অনিয়মের কথা আমাদের প্রায়ই শুনতে হয়। করোনাকাল কেটে যাওয়ার পর অনেকগুলো বিষয় চলে আসবে হিসেবের ক্ষেত্রে। যে শিক্ষকগণ এতদিন একেবারেই বেতন পাননি, কিভাবে এতদিনের বকেয়া স্কুল বিল্ডিংয়ের ভাড়া কিন্ডারগার্টেন মালিকরা শোধ করেছেন, কিভাবেই বা চলেছে এত এত শিক্ষকদের জীবিকা! শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের অনেকের বাবা-মা-ই কাজ হারিয়ে বেতন দেওয়ার সক্ষমতাও হারিয়েছেন। সবকিছু মিলে যখন চাহিদা আর জোগানের প্রচণ্ড রকম অমিল হবে, তখন এ খাতে একটি বড় পরিবর্তন আসতেই পারে। তবে সরকারের উচিত হবে সহযোগী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁচাতে সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে তদারকি বাড়ানো, যাতে বেশি টিউশন ফি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে কি না?

অনেক স্কুল অনলাইন ক্লাসও চালাতে পারছে না, যোগাযোগ নেই ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেও। তারা খোলার পরপরই কত টাকা বেতন চাইতে পারবে বা একেবারেই পারে কি না তা নির্ধারণ করে দিতে হবে শিক্ষা বোর্ড থেকেই। যদি এক্ষেত্রে কোনো স্কুল বলে যতদিন বন্ধ ছিল তত দিনের জন্য সত্তর বা আশি ভাগ বেতন দিতে হয়, তা অনৈতিক হবে এবং এ টাকা অনেক অভিভাবকই দিতে পারবেন না। আবার একেবারে না দিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও চলতে পারবে না। এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য বিনীত নিবেদন রাখছি। 

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর