বন্যায় ৬২ কোটি টাকার ক্ষতি
সিলেট অফিস
এবার তিন দফা বন্যায় সিলেটে মত্স্যসম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে মত্স্যচাষিরা পুঁজি হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। সরকারি হিসাবেই প্রায় ৬২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ১০ হাজার ২১২টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বিভিন্ন হাওর ও পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির ৩ হাজার ৫১৮ মেট্রিক টন মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৬৮২ জন মত্স্যচাষি।
মত্স্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় জানায়, বন্যায় সিলেট জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের সংখ্যা ১ হাজার ১৫৫টি। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ৮৭১ জন। মোট ক্ষতি ৫ কোটি ৪ লাখ ১ হাজার ৪৬০ টাকা। হবিগঞ্জ জেলায় ৩৯২টি মত্স্য পুকুর ও মত্স্যচাষি ৩২৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত। মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টাকা। সুনামগঞ্জ জেলার ৮ হাজার ৬৬৫টি পুকুর ও ৬ হাজার ৪৮৪ জন চাষি ক্ষতিগ্রস্ত। মোট ক্ষতির পরিমাণ ৫২ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
মত্স্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের উপপরিচালক মো. জিল্লুর রহমান জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। পুকুরগুলোতে ব্যক্তি উদ্যোগে রুই, কাতলা, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন জাতের মাছের চাষ করা হয়েছিল। মাছ ভেসে যাওয়ায় অনেক মত্স্যচাষি অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের মত্স্যচাষি আব্দুস শহীদের ১৭টি দিঘি ও পুকুর। ১৬টিই তলিয়ে যায় পাহাড়ি ঢলে। তিনি খামারে ২ কোটি টাকা পুঁজি খাটিয়েছিলেন। পোনা ছাড়াও পুরোনো বড় মাছও মজুদ ছিল পুকুরগুলোতে। বন্যায় প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ ভেসে যাওয়ায় তিনি এখন দিশেহারা। জেলার শ্রেষ্ঠ মত্স্যচাষি পুরস্কারপ্রাপ্ত ঐ গ্রামের আব্দুর রহিমের বাড়ির পাশেই ৪০ বিঘা জমিতে ছোট, বড় ও মাঝারি পাঁচটি পুকুর। ঢলের ধাক্কায় একাধিক পুকুরের পাড় ভেঙে ৬০ লাখ টাকার মাছ চলে গেছে। একই ইউনিয়নের টেংরাটিলা গ্রামের মত্স্যচাষি শের মাহমুদ ভুঁইয়ার ৩০ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা তুষার কান্তি বর্মণ জানান, এলাকার মত্স্যচাষিদের এবার ব্যাপক লোকসান হবে।