চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের তত্পরতা বেড়েই চলেছে। রাজনৈতিক বড় ভাইদের আশ্রয়ে অল্প বয়সি কিশোররা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তারা ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি ও খুনের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ কিশোর গ্যাং মাদকাসক্ত। এরা টাকার জন্য কথিত বড় ভাইদের প্রশ্রয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠে। সম্প্রতি কিশোর গ্যাংদের বেপরোয়া কার্যক্রম প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে।
গত বৃহস্পতিবার নবনিযুক্ত সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তারভীর কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন কিশোর গ্যাং নগরীতে নানা ঘটনা ঘটাচ্ছে। এদের মধ্যে অশিক্ষিত, বেকার ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীও রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষককে ঘায়েল ও দুর্বল করার জন্য অল্প বয়সি এসব কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাদের প্রশ্রয়দাতাদের খুঁজে বের করা হবে।
সম্প্রতি নগরীর চৌমুহনী এলাকায় কিশোর গ্যাংরা ছিনতাইকালে ছুরিকাঘাত করে এক প্রাইভেটকার চালককে খুন করেছে। কারচালক থেকে তারা মাত্র ২৪০ টাকা পেয়েছে। পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাং বিভিন্ন কৌশলে অপরাধ কার্যক্রমে জড়াচ্ছে। তারা পিকআপ ভ্যান নিয়ে দিনে-রাতে ঘুরে বেড়ায়। সুযোগ বুঝে পথচারীর কাছ থেকে ছিনতাই করে। কারচালক খুনের ঘটনায়ও ছিনতাইকারী কিশোররা পিকআপ চালিয়ে পালিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ পাঁচ কিশোরকে গ্রেফতার করে। এছাড়া নগরীর রেল স্টেশন থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ ১০ কিশোরকে গ্রেফতার করেছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি মহসীন চৌধরী বলেন, নিউ মার্কেট মোড় থেকে ৬ কিশোর মিলে পেয়ার আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে তুলে রেল স্টেশন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঐ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে এবং ছয় জনকে আটক করে। আটক কিশোরদের বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছর। এর আগে ফলমুন্ডিতে কয়েক জন কিশোর মিলে এক ফল ব্যবসায়ীকে মারধর করে। পুলিশ গিয়ে পারভেজ নামের ব্যক্তিকে উদ্ধার করে এবং চার জনকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় আটক কিশোরদের বয়স ১৬ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। সম্প্রতি চকবাজার টমটম গাড়ির স্ট্যান্ড বসিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করে স্থানীয় কিশোর গ্যাংরা। পুলিশ তাদের আটক করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কার্যক্রম আবাসিক এলাকায় বেশি হচ্ছে। নগরীর কোতোয়ালি, চকবাজার, চান্দগাঁও আবাসিক, শেরশাহ কলোনী, বায়েজিদ বোস্তামী, খুলশী, আগ্রাবাদ, হালিশহর, ডবলমুরিং ও বাকলিয়া এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তত্পরতা বেশি। এসব এলাকায় এলাকাভিত্তিক বড় ভাই রয়েছে।