ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে ফুল বিক্রেতা জিনিয়াকে অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতার নূর নাজমা আক্তার লুপা তালুকদারকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে তাকে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর তাকে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেই রিমান্ড শেষে গতকাল তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক রাজেশ চৌধুরী জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কথিত সাংবাদিক লুপার পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী আতাহার হোসেন ফরাজী।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবির দায়িত্বে) মাহবুব আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘লুপা যে জিনিয়াকে অপহরণ করেছে সেটা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।’ কেন সে অপহরণ করল? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লুপা মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত। এই ব্যবসায় সম্পৃক্ত করার জন্য সে জিনিয়াকে অপহরণ করে। তবে লুপার দাবি, মানুষ করার জন্য সে জিনিয়াকে নিয়ে যায়।
গত পহেলা সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে জিনিয়াকে টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে অপরিচিত দুই জন নারীর সঙ্গে ফুচকা খেতে দেখেছিলেন তার মা সেনুরা বেগম। এরপর থেকে জিনিয়ার হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। মেয়েকে না পেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন। পরে ৭ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় অপহরণের মামলা করেন তিনি। এরপর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার আমতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিনিয়াকে উদ্ধার করে ডিবি। এ সময় নূর নাজমা আক্তার লুপা তালুকদারকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে লুপা স্বীকার করেন তিনি ও তার মেয়ে নদী তালুকদার মিলে জিনিয়াকে অপহরণ করেন। তবে নদী এখনো পলাতক। তাকে গ্রেফতারে ডিবির অভিযান চলছে।