বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুশরাত জাহান নোহার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার তিন দিন পরও শিশুটিকে বেত্রাঘাতকারী সেই শিক্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরি থেকে শনিবার অব্যাহতি প্রদান করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নোহার মায়ের অভিযোগ, মেয়েটির বাবা ও সত্-মা তাকে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
নোহার মা তানিয়া বেগম সাংবাদিকদের জানান, নোহার বাবা সুমন মিয়া বর্তমানে চার নম্বর স্ত্রী নিয়ে সংসার করছেন। তিনিও বর্তমানে ঢাকায় সংসার করছেন। নোহা ছিল তার সত্-মা ঝুমুর বেগমের চক্ষুশূল। তানিয়ার অভিযোগ, তার মেয়ে নোহাকে সতীন ঝুমুর বেগম ও স্বামী সুমন মিয়া হত্যার পরে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। তিনি ঝুমুর বেগম ও সুমন মিয়াকে গ্রেফতার ও তাদের বিচার দাবি করেন।
তানিয়া বেগম তার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, আদালতের মাধ্যমে নোহাকে তার বাবার জিম্মায় প্রদান করা হয়। নোহার মৃত্যুর দুই দিন আগে তার দাদা তাকে (তানিয়াকে) ফোনে জানিয়েছিলেন যে, তার নাতির জন্য তিনি সম্পত্তি লিখে দেবেন, যাতে ভবিষ্যতে নোহার কোনো কষ্ট না হয়। ঐ সম্পত্তি লিখে দেওয়ার কথাই নোহার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তাকে জীবন দিতে হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষকতো ঘটনার দিন শুধু নোহাকেই মারধর করেনি, অন্যদেরও মেরেছে। তবে নোহা কেন আত্মহত্যা করবে? তাছাড়া অতটুকু মেয়ে কিভাবে ওড়না ও গামছা জোড়া লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিতে পারে? সম্পত্তি বেহাত হবার আশঙ্কায় নোহাকে তার সত্-মা ও তার সাবেক স্বামী হত্যা করেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি দ্রুত পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে মামলাটি সিআইডি বা ডিবিতে হস্তান্তরেরও দাবি জানান।
বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামে অবস্থিত স্কুল দারুল ফালাহ প্রি-ক্যাডেট একাডেমীর মাসিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নোহাকে বেত্রাঘাত ও গালাগালি করেন স্কুলের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন। পরে নোহার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায় তাদের বাড়িতে।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।