ইউএনওর ওপর হামলার তদন্তে নতুন মোড়

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। ঘটনার পর আসাদুলসহ তিন জনকে গ্রেফতারের পর র্যাব সংবাদ সম্মেলনে বলেছিল, চুরি করতে গিয়ে ঐ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি জানালেন, এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বরখাস্ত হওয়া মালি রবিউল ইসলাম। তাকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, হামলায় ব্যবহূত হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলাম (৩০) দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধামাহার ভীমপুর গ্রামের খতিবউদ্দীনের ছেলে এবং ঘোড়াঘাট ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত একজন কর্মচারী। ঘোড়াঘাট উপজেলায় মালি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত জানুয়ারি মাসে তাকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে টাকা চুরির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অপর আসামি নাদিম হোসেন পলাশ (২৬) দিনাজপুর সদর উপজেলার পরজপুর গ্রামের সুলতান মাহমুদের ছেলে এবং ইউএনও বাসভবনের নৈশপ্রহরী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর জানান, গতকাল বিকালে গ্রেফতার দুই জনকেই দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় রবিউল ইসলামের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক শুনানি শেষে তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে নৈশপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশের রিমান্ড আবেদন না করায় তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি আসাদুল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় বিকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। এ সময় আসাদুলকে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছিল। আদালতে আসাদুলের কোনো জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। এছাড়া নতুন করে কোনো রিমান্ড আবেদন না হওয়ায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর আগে গত শুক্রবার রিমান্ড শেষে এই মামলার অপর দুই আসামি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

ডিআইজির প্রেস ব্রিফিং

দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গতকাল বিকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুরের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ঘোড়াঘাটে ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সম্প্রতি রবিউল ইসলাম নামে একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে তার বক্তব্য প্রদান করেছে। তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বেশ কিছু আলামতও উদ্ধার করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সেটির সঙ্গে আমরা মিলিয়ে দেখছি। রিমান্ডে নিয়ে আমরা তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করব এবং ঘটনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করব।

ডিআইজি আরো বলেন, যেহেতু বিষয়টি এখনো চলমান রয়েছে, আমি মনে করি যে এই পর্যন্তই আমার বক্তব্য। পরবর্তী সময়ে তদন্ত সমাপ্ত করলে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব। হামলায় ব্যবহূত অস্ত্রের মধ্যে হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে রবিউল কী কারণে হামলা করেছিল—সে বিষয়ে কিছু বলেননি ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য। এছাড়া আলামত উদ্ধারের কথা বলা হলেও সাংবাদিকদের সামনে কোনো আলামত উপস্থাপন করা হয়নি।

গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাতে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তার পিতাকে নির্মমভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্ত করছে দিনাজপুর ডিবি পুলিশ। এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার দেখানো হলো।