করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় ডুবছে। কিন্তু এর প্রভাব পড়েনি এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা ব্যয়ে। বরং ব্যয়ের দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙছে এবার! বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সে কথাই বলছে।
আগামী ৩ নভেম্বর নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। হোয়াইট হাউজে প্রবেশের লড়াই তাই চূড়ান্ত পর্বে গড়াচ্ছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ কোটি ডলার (সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা) তহবিল সংগ্রহ করেছেন নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়ের জন্য। ওপেনসিক্রেটস ডট ওআরজি এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও কংগ্রেসের প্রার্থীরা সব মিলিয়ে প্রায় ৬৫০ কোটি মার্কিন ডলার (৫৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকা) ব্যয় করে। ২০১২ সালে এই খরচের পরিমাণ ছিল ৬২০ কোটি মার্কিন ডলার (৫২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা)। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি নির্বাচনেই ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে। ২০০০ সালের নির্বাচনে এই খরচ ছিল ৩০৮ কোটি ডলার (২৬ হাজার ১৮০ কোটি টাকা)। বলা হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে খরচের হিসাবটা নির্বাচনের পরেই জানা সম্ভব হবে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে খরচ হতে পারে ১ হাজার কোটি ডলার (৮৫ হাজার কোটি টাকা)।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রেসপনসিভ পলিটিক্স বলছে, অনলাইন, টিভিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এবার নজিরবিহীন পরিমাণ বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। যেখানে ব্যয়ও হচ্ছে অনেক বেশি। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের সাবেক আইনজীবী আদাভ নোতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিবিএসকে বলেন, বিজ্ঞাপনে খরচ অনেক বেড়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার প্রায় ৯০ শতাংশ বিজ্ঞাপনেই ব্যয় হবে।
প্রার্থীদের এবার বিপুল পরিমাণ তহবিল পাওয়ার কারণ কী? বলা হচ্ছে, কোনো সমর্থক তার দল বা প্রার্থীকে নির্বাচনী তহবিল হিসেবে ২০০ ডলার পর্যন্ত নাম প্রকাশ না করেই দিতে পারছেন। যাদেরকে বলা হচ্ছে, ‘স্মল-ডলার’ ডোনার। এই ক্ষুদ্র দাতাদের কাছ থেকেই প্রার্থী ও দলগুলো বেশি তহবিল পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উঠানো মোট তহবিলের ৫৫ শতাংশই এসেছে ক্ষুদ্র দাতাদের কাছ থেকে। সেখানে জো বাইডেনের এসেছে ৪৩ শতাংশ। ১৯৪৪ সাল থেকে পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিগুলো বা প্যাকস প্রার্থী ও দলের তহবিল সংগ্রহে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া সুপার প্যাকস ও বিভিন্ন কোম্পানি, ধনী ব্যক্তিরাও প্রার্থীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে থাকে প্রচারণা কাজে ব্যয়ের জন্য।
মার্কিন নির্বাচনে প্রচারণার ব্যয়ে বড় অংশই আসে কর্মী, সমর্থকদের পকেট থেকে। তবে প্রার্থীরাও নিজেদের সম্পদ থেকে প্রচারণায় ব্যয় করে থাকেন। যেমন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনে নিজের পকেট থেকে ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার (৫৬১ কোটি টাকা) ব্যয় করেছিলেন। প্রার্থীর ব্যয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (এফইসি) কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করে না। তাই ট্রাম্পের মতো ধনী প্রার্থীরা অনেকটাই সুবিধা পান। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের পকেট থেকে ১০ কোটি ডলার (৮৫০ কোটি টাকা) ব্যয় করতে পারেন। যদিও ডেমোক্র্যাট নেতা মাইকেল ব্লুমবার্গের খরচের কাছে ট্রাম্পের এই খরচ অনেক বেশি নয়। কারণ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হওয়ার জন্য ব্লুমবার্গ মাত্র কয়েক মাসের প্রচারণাতেই ১০০ কোটি ডলার (৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) ব্যয় করেছেন। তবে বেশি অর্থ ব্যয় মানেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত এমনটা নয়। ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারির প্রচারণা ব্যয়ের থেকে কম খরচ করেও জিতেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই অর্থ নয়, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা এবং ভোটারদের সঙ্গে সংযোগই জয় নির্ধারণ করতে পারে।