রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায় জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খানের ছেলে ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খানের মৃত্যুরহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, আসিফের মৃত্যুরহস্য জানতে তদন্ত চলছে। তবে তার স্ত্রী সাবরিনা শাহিদ নিশিতার সঙ্গে পারিবারিক বিরোধসহ অন্যান্য কারণ সামনে রেখে তদন্ত এগুচ্ছে। কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র জানান, ঘটনার পর ছেলে, মেয়ে উভয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুলিশ বৈঠক করেছে। বৈঠকে ছেলের বাবা হত্যার কোনো অভিযোগ করেননি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তিনি নিজেই নয় তলা থেকে ‘লাফিয়ে পড়ে’ আত্মহত্যা করেছেন। তবে ছেলের বাবা সাংবাদিকদের কাছে হত্যার অভিযোগ করলেও তিনি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসিফ ইমতিয়াজ খান কাঁঠালবাগান বাজারের মসজিদ গলিতে ১৬৩, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। প্রতি রাতে মাদক সেবন করে বাসায় ফিরতেন তিনি। এ কারণে স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় রাতেই ঝগড়া বিবাদ হতো তার। গত শুক্রবার ভোরের দিকে একই কারণে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে বাসা থেকে বের হয়ে ছাদে অনেকক্ষণ অবস্থান করেন তিনি। এরপর বাসার নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ কাঁঠালবাগানে শ্বশুর বাড়িতেই থাকতেন। তাদের কোনো সন্তান নেই। প্রসঙ্গত, আসিফের বাবা শহিদুল ইসলাম খান ১৯৮৬-৯০ মেয়াদে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি কামারখন্দ) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। আসিফও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন।