বিআইডব্লিউটিএর নদী খনন প্রকল্প

জনবল সংকটে ব্যবহার করা যাচ্ছে না ১২৭ জলযান

জনবল সংকটের কারণে নদী খননে ব্যবহার করা যাচ্ছে না ১২৭টি জলযান। দুটি প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ২১ কোটি টাকায় ক্রয় করা এসব জলযান অলস পড়ে আছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জন্য ক্রয়কৃত জলযানগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় আয়ুষ্কাল ক্রমশ কমছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে ও নদীতে ৩০টি ড্রেজারসহ ১২৭টি জলযান অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল সৃষ্টির প্রস্তাবনায় অনুমোদন না মেলায় বিদ্যমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ প্রকল্প ছাড়পত্রে এসব জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, প্রয়োজনীয়সংখ্যক জনবল না থাকায় জলযানগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে ১ হাজার ৬০১টি পদ সৃষ্টির অনুমোদন পাওয়া গেছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘২০ ড্রেজারসহ সহায়ক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি সংগ্রহ’ ও ‘১০ ড্রেজারসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি/যন্ত্রপাতি সংগ্রহ’ প্রকল্প দুটির আওতায় ১ হাজার ৯১৯টি পদ সৃষ্টির জন্য ২০১৭ সালের আগস্টে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালে ২৪ এপ্রিল ৩১৮টি পদ কেটে ১ হাজার ৬০১টি পদের অনুমোদন দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ঐ অনুমোদনের ৫ মাস পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ঐ প্রস্তাব আর্থিক অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পদ সৃষ্টি নিয়ে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা করে অর্থ বিভাগ। এ পর্যন্ত কয়েক দফায় বিভিন্ন তথ্য জানতে চেয়েছে অর্থ বিভাগ। নৌ মন্ত্রণালয় পাঁচ দফায় বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করেছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও প্রশাসনিক জটিলতায় এখনো এসব পদের অনুমোদন দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের পোষ্যরা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবে না

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের সচিব আবদুর রউফ তালুকদার ইত্তেফাককে বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে অর্থ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাবনা পাওয়া গেছে। প্রস্তাব পর্যালোচনা করে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দুটি প্রকল্পের আওতায় ১২৭টি জলযান কেনা হয়। ‘২০ ড্রেজারসহ সহায়ক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি সংগ্রহ’ প্রকল্পের আওতায় ২০টি ড্রেজারসহ ১১২টি জলযান কেনা হয়। এর মধ্যে ৯৫টি জলযান বিআইডব্লিউটিএর বহরে যোগ হয়েছে। এতে ১ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অপরদিকে ‘১০ ড্রেজারসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি/যন্ত্রপাতি সংগ্রহ’ প্রকল্পের আওতায় ৩৮টি জলযান কেনা হয়। এর মধ্যে ৩২টি জলযানের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি জলযান নির্মাণ চলছে। দুই প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ২১ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে সবচেয়ে বড় আকারের ড্রেজার বাঙ্গালী, বিশখালী, বংশী, বলেশ্বর, ব্রহ্মপুত্র ও বরাক বিআইডব্লিউটিএ বহরে যুক্ত হয়। প্রতিটি ড্রেজারের দাম ৬৩ কোটি টাকা। এসব ড্রেজার সংগ্রহের দুই বছর হলেও জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। বর্তমানে চারটি ড্রেজার শিমুলিয়া ও বাকি দুটির একটি খুলনা ও আরেকটি পাটুরিয়ায় রাখা হয়েছে। প্রতিটি ড্রেজার পরিচালনায় ২০ জন জনবল প্রয়োজন হলেও অস্থায়ী ভিত্তিতে ৫-৬ জন রয়েছে।

নদীর গভীরতা জরিপে কেনা সাতটি সার্ভে জাহাজ ২০১৬ সালে বুঝে নেয় বিআইডব্লিউটিএ। কিন্তু জাহাজগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থ্রি-এঙ্গেল মেরিনের শিপইয়ার্ডে পড়ে আছে। এই শিপইয়ার্ডে ১০টি জলযান রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এসব জলযান পাহারা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হচ্ছে। আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপইয়ার্ডেও বেশ কয়েকটি জলযান পড়ে আছে।

বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জনবল না থাকায় এসব জলযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না এবং বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে। এর মধ্যে ২৬ ইঞ্চি ডায়ামিটারের কাটার সাকশনবিশিষ্ট বড় আকারের ছয়টি ও ২০ ইঞ্চি ডায়ামিটারের ৯টি কাটার সাকশন ড্রেজার রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএএম