এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি:২০২০

হিসাববিজ্ঞান

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন

প্রভাষক-হিসাববিজ্ঞান বিভাগ

সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা

সুপ্রিয় শিক্ষার্থীরা বন্ধুরা। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা কর। যেকোনো সময় পরীক্ষা হয়ে যেতে পারে। আজ তোমাদের হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্রের হিসাবের বইসমূহ অধ্যায়ের বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি নিয়ে আলোচনা করছি।

দু’তরফা দাখিলা হিসাব পদ্ধতির নিয়মানুযায়ী সাধারণত দু প্রকারের হিসাবের এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত হয়। এগুলো হচ্ছে জাবেদা এবং খতিয়ান। জাবেদা প্রথম স্তরের হিসাবের খাতা এবং খতিয়ান দ্বিতীয়স্তরের হিসাবের পাকা খাতা। জাবেদা হতে খতিয়ানে লেনদেনসমূহের হিসাব পাকাপাকিভাবে সংরক্ষণ করা হয়। দু’তরফা দাখিলা হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রম জাবেদা হতে শুরু হয়। অর্থাত্, জাবেদা হিসাব-নিকাশ কর্মধারার সর্বপ্রথম স্তর। অন্যদিকে খতিয়ান হিসাব খাত প্রস্তুতকরণ হিসাব চক্রের দ্বিতীয়স্তর। কারবার প্রতিষ্ঠানের হিসাব বইতে যে সমস্ত হিসাব খাত পৃথক পৃথক শিরোনামায় সংরক্ষিত হয় তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে খতিয়ান বলে।

প্রদেয় বিল জাবেদা

সরবরাহকারীর বিলে স্বীকৃতি দিলে এই বহিতে লিখা হয় পাওনাদার/ ক্রয় হিসাব ডেবিট, প্রদেয় বিল হিসাব ক্রেডিট

সাধারণ বা প্রকৃত জাবেদা সমূহঃ

১. প্রারম্ভিক দাখিলা    ২. সমাপনী দাখিলা

৩. সমন্বয় দাখিলা     ৪. স্থানান্তর দাখিলা           ৫. ভুল সংশোধনী দাখিলা                              ৬. বিপরীত দাখিলা

৭. বাকীতে সম্পত্তি ক্রয়/ বিক্রয়                       ৮. প্রাপ্য বা প্রদেয় বিলের প্রত্যাখ্যান ইত্যাদি

অশুদ্ধি সংশোধন:

সাধারণ কথায় সত্যের অপলাপ অথবা সত্যের বিচ্যুতিকে ভুল বা অশুদ্ধি বলে। সাধারণত হিসাব সহকারী ও হিসাব-নিকাশকগণ হিসাবশাস্ত্রের পরিপূর্ণ জ্ঞানের অভাবে,অজ্ঞতাবশত কাজের চাপে, রেওয়ামিল ও অমনোযোগিতার কারণে বিভিন্ন সহকারী বইতে লেনদেনের হিসাব লিখতে যে ভুল করে হিসাব লিখন কাজে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে তাকে হিসাবের ভুল বা অশুদ্ধি বলে।

বিভিন্ন প্রকার অশুদ্ধি সম্পর্কে নিম্নে উদাহরণ ব্যাখ্যা করা হল—

১.বাদ পড়ার ভুল : যখন কোন লেনদেন হিসাব-বইতে লিপিবদ্ধকরণ আংশিকভাবে অথবা সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়ে যায়; আবার যখন কোন হিসাবের জের স্থানান্তরকরণ বাদ পড়ে যায়, তখন হিসাব লিখন কার্য অসম্পূর্ণ থাকে। হিসাব বইয়ের এ জাতীয় অশুদ্ধিকে বাদ পড়ার ভুল বলে।

উদাহরণ: “হারুনের নিকট হতে বাকীতে ৫০০.০০ টাকা মূল্যের পণ্য ক্রয় করা হলো।” এই লেনদেনটি জাবেদা এবং খতিয়ান কোথায়ও লিপিবদ্ধ করা হয় নাই। অর্থাত্ লেনদেনটি লিপিবদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়েছে। আবার ধরা যাক, “রহিমের নিকট বাকীতে ২০০.০০ টাকার পণ্য বিক্রয় করা হয়েছে।” এই লেনদেনটি বিক্রয়-বইতে লিপিবদ্ধ হয়েছে; কিন্তু এ দ্বারা রহিমের হিসাব ডেবিটকরণ বাদ পড়েছে। অর্থাত্ এ লেনদেনটি বিক্রয় বইতে লিপিবদ্ধকরণ আংশিকভাবে বাদ পড়েছে। ইহা বাদ পড়ার ভুলের উদাহরণ।

২.লেখার ভুল : লেখার ভুল বিভিন্ন কারণে সংঘটিত হতে পারে। যেমন— কোন হিসাবখাতের ডেবিট পার্শ্ব অথবা ক্রেডিট পার্শ্ব যোগ করার সময় ভুল,উদ্বৃত্ত নির্ণয়ের সময় বিয়োগের ভুল,উদ্বৃত্ত স্থানান্তরকরণের ভুল, নির্দিষ্ট হিসাবখাতের পরিবর্তে অপর একটি হিসাবখাতে লেখার জন্য ভুল ইত্যাদি। এ সমস্ত ভুলকে লেখার ভুল বলে।

উদাহরণ: ‘রবিনসনের নিকট হতে নগদ ২০০.০০ টাকা পাওয়া গেল। এই লেনদেনটির জন্য নগদান হিসাব ২০০.০০ টাকার ডেবিট হয়েছে কিন্তু রবিনসনের হিসাব ২০০.০০ টাকা দ্বারা ক্রেডিট করবার পরিবর্তে  ২,০০০.০০ টাকায় ক্রেডিট হয়েছে। আবার ধরা যাক, “ক্রয়-বহির যোগফল ২৫.০০ টাকা কম হয়েছে।’ এই লেখার ভুলের জন্য ক্রয় হিসাব ২৫.০০ টাকা কমে ডেবিট হবে। ইহা একটি লেখার ভুল।

৩.নীতিগত ভুল : হিসাববিজ্ঞান এবং হিসাব বিজ্ঞান শাস্ত্রের উপর পর্যাপ্ত তাত্ত্বিক জ্ঞানের অভাবে হিসাব-বইতে নীতিগত ভুল সংঘটিত হয়। অর্থাত্ কোন লেনদেনের জন্য যে হিসাবখাতটি ডেবিট করতে হবে তা না করে অপর একটি হিসাবখাত ডেবিট করা হয়; অথবা যে হিসাবখাতটি ক্রেডিট করতে হবে তা না করে অপর একটি হিসাবখাত ডেবিট করা হয়। এরূপ কর্মধারায় হিসাব-বইতে অশুদ্ধি সংঘটিত হয় একে নীতিগত ভুল বলে।